লঙ্কায় গিয়ে রাবণ হবে না বিজেপি: জয়

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: যেই যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। ২০০৯ সাল থেকে বংগ রাজনীতিতে ঘুরছে এই বাক্য। এই প্রবাদের মাধ্যমে প্রথমে ইঙ্গিত করা হত তৃণমূল কংগ্রেসকে। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে বিজেপি।

সমালোচক এবং সন্দিহানদের জবাব দিয়ে বঙ্গ বিজেপি-র রাজ্য নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, ‘লঙ্কায় যাওয়া সকলে রাবণ হয় না।’ নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে রাখলেন জোরাল যুক্তি।

- Advertisement -

পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে নিত্য দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি নেতা হওয়ার আগে তিনি ছিলেন বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা। গ্রাম বাংলায় এখনও বেশ জনপ্রিয় সেই গায়ের ছেলে হিরু। সেই জনপ্রিয়তাকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি-র বঙ্গ ব্রিগেড এবং অবশ্যই জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার পঞ্চায়েত ভোটে দলের প্রচারে হাওড়া জেলায় হাজির ছিলেন জয় বাবু। হাওড়ার ডোমজুর, সাঁকরাইল এবং ধূলাগড়ে মোট চারটি জনসভায় অংশ নেন তিনি। ডোমজুরে একটি র‍্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন। উক্ত চার সভার একটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনৈতিক জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেন শ্রোতাদের সামনে।

জয় জানিয়েছেন যে ভোট চাইতে গিয়ে এক বয়স্ক ব্যক্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। নিয়ম মতোই তাঁকে সুশাসনের জন্য বিজেপি-কে একটা সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সেই সময় ওই বৃদ্ধা জয়কে বলেন, “কী সুযোগ দেব! যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।” সেই প্রসঙ্গে তুলে এদিনের সভায় জয় বলেন, “কথাটি ভুল নয়। কংগ্রেস, সিপিএম এবং তৃণমূল লঙ্কায় গিয়ে রাবণ হয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রমও আছে।” বিজেপি সেই ব্যতিক্রম বলে দাবি করেছেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

ব্যতিক্রমের উদাহরণ দিতে গিয়ে রামায়ণের যুদ্ধ এবং শ্রী রামচন্দ্রের কথ টেনে এনেছেন জয় বাবু। তাঁর কথায়, “রামচন্দ্র মহাযুদ্ধের পর যখন রাবণকে বধ করে লঙ্কা জয় করেছিল তখন অনেক লোক বলেছিল যে লঙ্কা হচ্ছে স্বর্ণখনি। লঙ্কার রাজা হয়ে বসুন। কিন্তু রামচন্দ্র বিভীষণকে লঙ্কার রাজা করে উনি ওনার গরিব প্রদেশ পিতৃদেশ অযোধ্যায় ফিতে গিয়েছিলেন। তাই যে যায় লঙ্কায় সেই কথাটা ঠিক নয়।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “আমরা(বিজেপি) হচ্ছি রামের চ্যালা। আমাদের পথপ্রদর্শক হচ্ছে রাম।” সেই কারণে বিজেপি লঙ্কায় গেলে কখনই রাবণ হবে না।

এরপরেই দুর্নীতিতে নিয়ে রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমাদের পার্টিতে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর তৃণমূলে দুর্নীতি করলে সেই সব নেতার উন্নতি বেশি হয়।”

Advertisement ---
---
-----