সবং উপনির্বাচনে জেতার জন্য মমতাকে ‘ডবল’ অভিনন্দন জয়ের

স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: সবং বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জয়লাভের জন্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডবল অভিনন্দন জানালেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় এক প্রকাশ্য জনসভায় এই মন্তব্য করেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতা জয়।

আরও পড়ুন- বঙ্গে পদ্ম ফোটাতে জয়ের হাতিয়ার ‘হীরক জয়ন্তী’

এদিন সবং বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। যেখানে বিপুল ব্যবধানে জয় হাসিল করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই আসনটি একসময় ছিল কংগ্রেসের দখলে। সবং কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের কংগ্রেস বিধায়ক দলবদল করা মানস ভুঁইয়াকে রাজ্যসভার সাংসদ করে তৃণমূল। যার ফলে ওই কেন্দ্রে আবার উপনির্বাচন হয়।

- Advertisement -

আরও পড়ুন- বিজেপির জয়কে জবাব দিতে স্ত্রী অনন্যাকে মাঠে নামাল তৃণমূল

সবং বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী প্রার্থী গীতা ভুঁইয়া হলেন মানস বাবুর স্ত্রী। এই ফলের কারণে রাজ্য বিধানসভায় আসন বৃদ্ধি পেল তৃণমূলের। রাজ্যের শাসকদলের এই সাফল্যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের এই জয়ের জন্য আমি আমার হৃদয় থেকে শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাব।”

আরও পড়ুন- তৃণমূলের জায়া চালকে পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপির জয়

বিধানসভায় এক অংকের বিধায়ক থাকলেও অঘোষিতভাবে এখন রাজ্যে বিরোধী দল হয়ে উঠেছে বিজেপি। এখন আর সিপিএম নয়, বিজেপিকেই আক্রমণ করে থাকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা। এই অবস্থায় গেরুয়া শিবিরের রাজ্য নেতার মুখে এই ধরণের বক্তব্যে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু, পরক্ষণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানানোর কারণ বিশ্লেষণ করেন জয়।

আরও পড়ুন- বিকল্প মালাইচাকি অর্ডার করে রাখুন! তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জয়ের

দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের দখলে থাকা সবং বিধানসভা কেন্দ্রটি হাত ছাড়া হয়ে গিয়েছে হাত শিবিরের। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট করে লড়েছিল। সেই অর্থে সবং বিধানসভা কেন্দ্রে মানস বাবুর জয়ের পিছনে বামেদেরও অবদান ছিল। সেই কেন্দ্র তৃণমূলের দখলে যাওয়া মানে বাম-কংগ্রেসকে পরাস্ত করা। এমনটাই মনে করেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, “বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার দলবদল সবং কেন্দ্রে তৃণমূলের জয় মানে ওই কেন্দ্রটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম-কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং জিতেছেন।”

আরও পড়ুন- অনুব্রতর চোখ উপড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিজেপির জয়ের

কেন্দ্রের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির একটা অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে কংগ্রেস মুক্ত ভারত গঠন। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন মোদী-অমিত শাহ জুটি। দেশের ১৯টি রাজ্যে এখন সরকার পরিচালনা করছে পদ্ম। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের পর পঞ্জাব ছাড়া সর্বত্রই জয় হাসিল করেছে গেরুয়া বাহিনী। বিহারে লালু-নীতিশ জোটের কাছে পরাস্ত বছর দুই পরে রাজনীতির কূট চালে সেই রাজ্যেও সরকার গঠন করেছে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এদিন ফারাক্কায় জয় বলেন, “আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম একটি মিশন হচ্ছে কংগ্রেস মুক্ত ভারত গঠন। সেই কংগ্রেসের একটা সিট ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি ডবল অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুন- মমতার হিন্দুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জয়

মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের বরাবরের শক্ত ঘাঁটি। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির খাসতালুক হচ্ছে এই জেলার বহরমপুর। যদিও ঘাস ফুলের রাজত্বে সংগঠন আলগা হয়েছে হাতের। বিজেপির দাবি, এদিনের কংগ্রেস এবং তৃণমূল থেকে ৩৫০ জন কর্মী-সমর্থক বিজেপির পতাকাতলে আসেন। জয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।

Advertisement
---