অনুব্রতকে ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দেওয়ার ‘হুমকি’ জয়ের

সৌমেন শীল, হুগলী: অনুব্রতকে পালটা মারের ‘হুমকি’ দিয়ে দিলেও জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পাল্টা মারের রাজনীতি চলছেই বাংলার রাজনীতিতে। রাজনীতিকরা কাজে কে কি করবেন সেটা চোখে দেখা মোটেই শ্রেয় হবে না কিন্তু আপাতত মার, পালটা মারের রাজনীতি চলছে মুখে মুখেই। অনুব্রত মণ্ডলের কুরুচিকর বক্তব্য শুনে দিলীপ ঘোষ পালটা মুখ মার দিয়েছিলেন। তার পালটা দিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জ্যোতিপ্রিয়ের কথা মোটেই প্রিয় হয়ে ওঠেনি দিলীপ সহকর্মী জয়ের। তিনিও মুখেই ঘা কতক চালিয়ে দিলেন কেষ্ট অনুব্রত মণ্ডলকে।

এক ছিলেন সাত মার পালোয়ান। যিনি সাত সাতটা মাছি মেরে হিরোগিরি দেখিয়েছিলেন। আর এক বাংলার ‘মুখ মার পালোয়ান’ রাজনিতিক দল, যারা বারবার কথায় বাঁধ টানতে ভুলে যাচ্ছেন। অনুব্রত, দিলীপ, জ্যোতিপ্রিয়ের পরে এই দলে নয়া সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও অনুব্রত সায়েস্তা করতে রণে নেমে পড়েছেন। তিনি দেখেছেন অগ্রজরা যে রেটে খিস্তি খেউড়ে অবধি নেমে গিয়েছেন তিনি দলের এক কর্মী হয়ে এই যুদ্ধে নিজের নাম রেজিস্টার করাতে ক্ষতি কি? ‘লাগ লাগ লাগ নারদ’ বলে তিনিও লেগে পড়লেন। তবে তিনি প্রাক্তন অভিনেতা, তাপস পাল হতে তিনি ব্যর্থ। তাই কিছুটা বাক শালীনতা রেখে তিনি বললেন অনুব্রত মণ্ডলকে তিনি ডাণ্ডা পেটা করবেন। ‘তেরে মেরে ডাণ্ডা, করে  দেব ঠাণ্ডা’ জয়ের বক্তব্যের সুর ছিল অনেকটা এমনই।

দলীয় সভায় এসে অনুব্রতকে টার্গেট করে ঠিক কি বললেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়? তিনি বললেন, “মোটা লোকটা পুলিশকে এমনভাবে ধমকাচ্ছে যা দেখে আমারও খারাপ লাগছে। আমি যদি পুলিশ হতাম তাহলে ডাণ্ডা পেটা করে শ্রীঘরে পাঠিয়ে দিতাম।” পুলিশকে উদ্দেশ্য করে জয় বলেন, “আপনাদের একটা সম্মান আছে। ওই খয়েরি পোশাক কত বাঘা বাঘা পুলিশ অফিসার পড়েছে। ভয় ভুলে বিবেক জাগিয়ে ওই সব বেয়ারাদের বিরুদ্ধে চটজলদি ব্যবস্থা নিন।” এটা অতিব সত্য যে অনুব্রতের ওই ডায়লগবাজির সামনে যেভাবে পুলিশ দাঁড়িয়েছিল তাঁকে ভয়ে ভেজা বেড়াল হয়ে যাওয়া ছাড়া কিছু মনে হচ্ছিল না। জয়ের পালা এটুকুতেই শেষ হয় নি। তিনি বলেছেন, “নির্বাচনে আমি জিততেও পারতাম কিন্তু ওই মোটা লোকটা এসে কি সব কারসাজি শুরু করে দিল। ওই কারসাজিতেই সব গণ্ডগোল হয়েছে।” একপ্রকার জয় বলতে চেয়েছেন অনুব্রত চুপিসারে গুপি কাজটি সেরে তাঁকে ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন।

- Advertisement -

যা পরিস্থিতি জয়ের এই মন্তব্যের পালটাও আসতে পারে যেকোন সময়ে। জয়ের ডাণ্ডা পেটানির বার্তা অনুব্রত মণ্ডলের কান অবধি পৌঁছলে পালটা ‘বোমা’ সেখান থেকেই ধেয়ে আসতে পারে। কেষ্ট চেপে গেলে কে চাপটা নেন সেটাই এবার দেখার।

Advertisement
---