নয়াদিল্লি : ভারতের গণতন্ত্র নিয়েই উঠে গেল প্রশ্ন৷ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগ তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টেরই চার বিচারপতি৷ অভিযোগের মূলে মু্ম্বইয়ের বিচারক বি এইচ লোয়ার আকস্মিক মৃত্যু৷ তাঁর মৃত্যুর তদন্ত করার জন্য ২টি আবেদন জমা পড়ে৷ সেই আবেদনের ভিত্তিতে মামলা চলা নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক৷

সোরাবউদ্দিনের মিথ্যে এনকাউন্টারের মামলা চলছিল বিচারক বি এইচ লোয়ার তত্ত্বাবধানে৷ মামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নাম৷ অভিযোগ, মামলায় অমিত শাহের পক্ষে নিয়ে আসার জন্য বিচারককে চাপ দেওয়া হচ্ছিল৷ ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছিল৷ এই নিয়ে তখন প্রচুর জলঘোলাও হয়৷ কিন্তু তাতে সম্ভবত কাজের কাজ কিছু হয়নি৷ নিজের জায়গা থেকে নড়েননি লোয়া৷

- Advertisement -

তবে তিনি চাপে ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁর কাকা শ্রীনিবাস লোয়া৷ বলেছিলেন, সম্পূর্ণ পরিবারকেই চাপে রাখা হয়েছিল৷ পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে পদত্যাগ করার করা ভাবছিলেন বি এইচ লোয়া৷ সেটা সম্ভব না হলে ট্রান্সফার নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি৷ কিন্তু তার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়৷ মেডিক্যাল রিপোর্টে প্রকাশিত হয় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল লোয়ার৷ কিন্তু তাঁর পরিবার এটি মেনে নেয়নি৷ তাদের মতে, চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে শেষ কয়েকঘণ্টা বেঁচে ছিলেন বিচারক৷

কিন্তু লোয়ার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরও এক বিচারপতি৷ নাম ভূষণ গাভাই৷ তিনি জানিয়েছেন, লোয়ার পরিবার সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ আনছে৷ অসুস্থ অবস্থায় লোয়াকে অটো রিকসায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল৷ কিন্তু অনেকেই তা মানতে পারেননি৷ এক সাংবাদিকও বিচারকের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন৷

বিচারক লোয়ার মৃত্যুর পর যিনি মামলাটি হাতে নেন তিনি অমিত শাহের সপক্ষেই রায় দেন৷

ঘটনার শুরু ২০০৫ সালে৷ গুজরাতের এক অপরাধী ছিল সোরাবউদ্দিন শেখ৷ চোরাকারবার সহ একাধিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে৷ সিবিআইয়ের অভিযোগ, এই সোরাবুদ্দিনকে মিথ্যে এনকাউন্টারে খতম করা হয়৷ শুধু সোরাবুদ্দিন নয়৷ তার স্ত্রী ও দুই বন্ধুকেও মেরে ফেলা হয়৷ সিবিআইয়ের অভিযোগের তির ছিল অমিত শাহের দিকে৷ তিনি তখন গুজরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

- Advertisement -