মহানগরে মহাপ্রলয়, দেখা মিলল ডাইনোসরের

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ঠাকুর দেখতে মণ্ডপে প্রবেশ করলেন আর তারপরেই খেলেন ডাইনোসরের তাড়া। কেমন লাগবে তাহলে? বেরনোর উপায় নেই। কারণ যতক্ষণে পালাবেন ভাবছেন ততক্ষণে আপনি পৌঁছে গিয়েছেন জুরাসিক ওয়ার্ল্ডে। যেখানে রাজত্ব শুধু ডাইনোসরদের। এটাই এই বছরে দুর্গা পুজোর বিষয় সল্টলেক এফডি ব্লকের।

‘থিম নয় ডিম’ জুরাসিক যুগ নিয়ে তৈরি এই মণ্ডপের এমনই নাম রেখেছেন শিল্পী মিন্টু পাল। ক্রেটেশাস, জুরাসিক, ট্রায়াসিক এই নিয়ে মেসোজয়িক বা মধ্যজীবীয় যুগ ছিল। এর স্থায়িতকাল ছিল প্রায় ৬০ কোটি বছর। এই সময়টা পুরোটাই ডাইনোসরদের৷

ডিম ফুটে জন্ম নেওয়া এই বৃহদাকার প্রাণীরা এই বিশাল সময়কাল পুরোদমে দাপিয়ে বেড়িয়েছে পৃথিবীর বুকে। বিলুপ্ত প্রাণীকূলের জীবন্ত ফসিলের মধ্যে অন্যতম টিকটিকি, গণ্ডার জাতীয় ছোট বড় আকৃতির প্রাণীগুলি। যদিও ক্রেটেশাস, জুরাসিক এবং ট্রায়াসিক যুগের ডাইনোসর আলাদা তবুও হলিউড ছবি দেখে অনেকেই জানেন ডাইনোসর একমাত্র জুরাসিক যুগেই ছিল।

 

এই জুরাসিক পার্ক সিনেমার মতোই পুরো মণ্ডপটি তৈরি হয়েছে এফডি ব্লকে। সেখানে তিনটি সময়ের ডাইনোসরদের একসঙ্গেই দেখানো হয়েছে। রয়েছে ট্রাইসেরাটপস, টিরানোসরাস থেকে শুরু করে ব্রন্টোসরাস, স্টেগোসরাস, থিকোডল্ট সবই।

শিল্পী মিন্টু পাল বলেন,”আসলে আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে বিষয়টা দেখাইনি। দেখিয়েছি সিনেমার মতো। এমন একটা জগত যেখানে কৃত্রিমভাবে ডাইনোসরদের নবজন্ম দেওয়া হয়েছে।” এফডি ব্লকের জুরাসিক ওয়ার্ল্ডে সেই সব ডাইনোসররাই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সিনেমার মতো কিন্তু সিনেমা নয়। থিম কিন্তু থিম নয়। দুয়ের মাঝে রয়েছে থিম নয় ডাইনোসরের ডিম৷ কিন্তু প্রতিমা? সেটা একেবারেই সাবেকি। যেমনভাবে সপরিবারে দুর্গা মর্তে আসেন ঠিক তেমনভাবেই তিনি এসেছেন এফডি ব্লকে। বিষয়টি অনেকটা ডাইনোসরের তাড়া খেয়ে দুর্গার কাছে প্রাণ রক্ষার নিবেদনের মতো। আর ঠিক সেটাই ফুটে উঠেছে সল্টলেকের অন্যতম হেভিওয়েট এই পুজোয়।