প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: ২১ টি শ্রমিক সংগঠনের ডাকে রাজ্য জুড়ে জুটমিল বন্ধের মিশ্র প্রভাব পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। কাজ বন্ধ ছিল ভাটপাড়া ও জগদ্দল এলাকার একাধিক জুট মিলে। দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ ভাটপাড়া রিলায়েন্স জুট মিলটিও।

আরও পড়ুন- দুষ্কৃতিদের তাণ্ডবে পাড়া ছাড়ছেন বাঙালি হিন্দুরা, অভিযোগ মুসলিম শিক্ষকের

অন্যদিকে হালিশহরের হুকুম চাঁদ জুটমিলে শুক্রবার সকাল থেকে কোন শ্রমিক কাজে যোগ না দেওয়ায় এই জুটমিল কর্তিপক্ষ জুটমিলের গেটে কাজ বন্ধের নোটিশ সেটে দেয়। এর ফলে এই কারখানায়ও অনির্দিষ্ট কালের জন্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল। কাজ হারালেন অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক। এই জুটমিল কর্তিপক্ষ নোটিশে জানিয়ে দেয় শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ার ফলে কর্তীপক্ষের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে,তাই তারা জুটমিল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

আরও পড়ুন- শহর সহ রাজ্যকে মুরিয়ে ফেলা হল কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে

জুটমিল শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি , বেতন ন্যূনতম ১৮ হাজার টাকা করা, সমস্ত জুট মিল শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা, শ্রমিকদের পি এফ এর সঠিক হিসেব দেওয়া, অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ী করণ সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনরত ২১টি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সাথে বৃহস্পতিবার রাজ্য শ্রম দফতরে মিল মালিকরা আলোচনায় বসেন।

যদিও ওই আলোচনা সভা থেকে শ্রমিকদের দাবি গুলির সেইরকম কোন সমাধান সূত্র না বেরোনোয় শ্রমিক ইউনিয়ন গুলি শুক্রবার ফের রাজ্য জুড়ে জুটমিল ধর্মঘটের ঘোষণা করেন। অন্যদিকে টিটাগরের কেলভিন জুটমিল, ওয়েভারলি জুটমিল এবং আগরপাড়া জুট মিলে এই ধর্মঘটের কোন প্রভাব পরতে দেখা যায়নি। এই জুটমিল গুলিতে কাজ হয়েছে পুরোদমে। সচল এই জুটমিল গুলির মালিক পক্ষ জানিয়েছে, তাদের জুটমিলে কাজ বন্ধের কোন প্রভাব পড়ে নি। শ্রমিকরা উৎসাহের সঙ্গে উৎপাদন পক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন।

পাশাপাশি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে একাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোটে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।