বধূকে হত্যায় সুপারি কিলার লাগিয়েছিল স্বামী

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অবশেষে ২ দিন পর কৈখালির সিভিক ভলানটিয়ার খুনের কিনারা করল পুলিশ৷ ঘটনায় গ্রেফতার করা হল ওই বধূর স্বামী ও শাশুড়িকে৷ ধৃতদের আজ সোমবার আদালতে তোলা হবে৷

পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতরা খুনের কথা কবুল করেছে৷ অভিযোগ, পেশায় সিভিক ভলানটিয়ার শম্পা দাস স্বামী ও শাশুড়ির ওপর অত্যাচার করতেন৷ সেই আক্রোশ থেকেই সুপারি কিলার দিয়ে তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করেন সুপ্রতিম ও মীরা দাস৷ দু’জন সুপারি কিলারের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিমানবন্দর থানার পুলিশ৷ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বাড়ির সর্বক্ষণের পরিচারিকাকেও সন্দেহের উর্ধে রাখছেন না তদন্তকারীরা৷

শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থানার কৈখালির চিড়িয়ামোড়ের ফ্ল্যাট থেকে পেশায় সিভিক ভলানটিয়ার শম্পা দাসের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ ফ্ল্যাট থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শম্পাদেবীর স্বামীকে৷ খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ৷ তদন্তে নেমে প্রথম থেকেই শম্পাদেবীর স্বামীকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছিলেন তদন্তকারীরা৷

- Advertisement -

পুলিশের দাবি, দফায় দফায় জেরায় সামনে ভেঙে পড়েন সুপ্রতিম৷ স্বীকার করে নেন স্ত্রীকে হত্যার ঘটনা৷ পুলিশের এক কর্তার দাবি, জেরায় ধৃতরা দাবি করেছেন, বিয়ের পর থেকেই শম্পা তাঁদের ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করতেন৷ তাই সুপারি কিলার দিয়ে তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করে মা ও ছেলে৷ স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় যাতে তাঁদের সন্দেহ না করা হয়, তাই সুপারি কিলার দিয়ে স্ত্রীকে খুন করিয়ে তাঁদের দিয়েই নিজেকে চেয়ারের সঙ্গে বাঁধার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সুপ্রতিম৷ এমনকি পরিকল্পিতভাবেই মীরাদেবী সেসময় নাতিকে নিয়ে বাজারে চলে গিয়েছিলেন৷

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন বিকেলে সুপ্রতিমের ফোন পেয়েই নির্দিষ্ট সময়ের আগে ডিউটি থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন শম্পা৷ পেশায় সুপ্রতিম ইঞ্জিনিয়র ছিলেন৷ তবে বর্তমানে তাঁর কোনও কাজ ছিল না৷ স্বভাবতই এনিয়েও দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল৷

তবে যেভাবে ফিল্মি কায়দায় সুপারি কিলার লাগিয়ে সুপ্রতিম ও তার মা শম্পাকে হত্যা করেছেন তাতে স্তম্ভিত তদন্তকারীরা৷ পুলিশ জানতে পেরেছে সেদিন সন্ধেয় ফ্ল্যাটে এসেছিল দু’জন সুপারি কিলার৷ তাঁদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি৷ একইসঙ্গে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বাড়ির সর্বক্ষণের পরিচারিকার ভূমিকাও৷ বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের বিষয়টিও সন্দেহের উর্ধে রাখছে না পুলিশ৷

Advertisement ---
---
-----