‘মুসলিমরা না থাকলে আমরা বাঁচতাম না’, ট্রেন দুর্ঘটনার পর বললেন এই সাধু

মুজফ্ফরনগর : কলিঙ্গ উত্কল এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা সামনে এনে দিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে৷ একদল হিন্দু সাধুকে বাঁচালেন স্থানীয় মুসলিমরা৷ দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ আহত হয়েছেন অনেকে৷

উত্কল এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন গোরুয়াধারী ভগবান দাস মহারাজ৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ৬ শিষ্য৷ মধ্যপ্রদেশের মোরানা থেকে হরিদ্বার যাচ্ছিলেন তাঁরা৷ পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন৷ ভগবান দাস জানিয়েছেন, “আমার মনে আছে আমার মাথা সামনের সিটে ঠুকে গিয়েছিল৷ প্রায় দুটো সিট এগিয়ে পড়েছিলাম আমি৷ খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল৷ সবদিক থেকে চিত্কার ভেসে আসছিল৷ যদি ওই এলাকায় মুসলিমরা না থাকতেন, তাহলে আমরা বাঁচতাম না৷ ওঁরা দুর্ঘটনাস্থলে এসে আমাদের ট্রেন থেকে টেনে বের করে৷ আমাদের জল এনে দেয়৷ আমাদের জন্য চিকিত্সকেরও বন্দোবস্ত করে৷ আমরা ওঁদের ওই ব্যবহার ভুলব না৷” ওই দলের ৩ সন্ন্যাসী গুরুতর আহত হয়েছেন৷ তাঁদের লালা লাজপত রাই মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়েছে৷

আর এক সন্ন্যাসী মণি দাস জানিয়েছেন, “আমরা ভগবানে বিশ্বাস করি৷ দুর্ঘটনার পর আমরা তাঁর প্রভাব দেখেছি৷ মানুষ হিন্দু-মুসলিমদের নিয়ে রাজনীতি করে৷ কিন্তু দুই দলের মধ্যে সবসময় ভালোবাসা থাকে৷”

- Advertisement -

মুজফ্ফরনগরের খাতাউলির কাছে কলিঙ্গ উত্কল এক্সপ্রেসের ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়৷ সঙ্গে সঙ্গে মেরঠের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা যেন দুর্ঘটনাগ্রস্তদের জন্য এমারজেন্সি ওয়ার্ড তৈরি রাখেন৷ সন্ন্যাসী হাকিম দাস জানিয়েছেন, “আমাদের বগিতে অনেক শিশু ও মহিলা ছিলেন৷ আমরা গল্প করছিলাম৷ হঠাত্ আমাদের বগি উলটে যায়৷ প্রথমে তো আমরা বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে৷”

মেরঠের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা: রাজকুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, “২৩ জনেরও বেশি আহতকে মেরঠের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ২৬টি সরকারি ও ২৬টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনাস্থলে যায়৷”

Advertisement
---