মৃত্যুর দুই দশক পরেও জীবিত কারগিলের শহিদ

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ভিটে বাড়িতে এখনও যেন জীবিত ক্যাপ্টেন কণাদ। তিনি জীবিত তাঁর ভিটে বাড়ির বর্তমান মালিক কল্যাণ চৌধুরীর সৌজন্যে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ একটা বাড়ি। কিন্তু দরজার বাইরে ক্যাপ্টেনের ছবি দেখলে বোঝা যাবে এ বাড়ির বর্তমান মালিকের মন জুড়ে রয়েছে বাঙালি শহীদের বীরত্ব।

৩/২ বিটি রোড। হ্যাঁ, এটাই লেফটেন্যান্ট কণাদ ভট্টাচার্যের আদি বাড়ি। টালা ব্রিজ দিয়ে উঠে একটু এগোলেই এই ছোট একতলা টিনের চালের বাড়িটির দেখা মিলবে। সরু গলি দিয়ে বাড়ির সামনে পৌঁছাতেই দেখা গেল ক্যাপ্টেনের ছবি মালা দিয়ে সযত্নে সাজানো।

- Advertisement DFP -

আরও পড়ুন: এবার সেনাবাহিনীর পরীক্ষাতেও ভুয়ো পরীক্ষার্থী!

এইটুকুই নয়, বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলেও দেখা মিলবে সেই একই চিত্রের। ঘর ভরতি নেতাজি, ক্ষুদিরাম বসু, অরবিন্দ ঘোষ, মাস্টারদা সূর্য সেনের ছবির মাঝে রাখা রয়েছে ক্যাপ্টেন কণাদের ছবিটি।

বাড়িতে কল্যাণ চৌধুরী থাকেন তাঁর স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে। তিনি বলেন, “ এই বাড়িতে বাস করা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। একজন এমন বীর শহীদের বাড়িতে থাকছি। ভাবলেই রোমাঞ্চ লাগে যে, মানুষটার ছেলেবেলা এই বাড়িতেই কেটেছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১০ সাল থেকে আমার কাছে খবর এসেছিল এই বাড়ি বিক্রি করা হবে। আমি স্থানীয় ছেলে। তখন বাড়ি কেনার বিশেষ আর্থিক ক্ষমতা না থাকলেও ইচ্ছা ছিল বাড়িটা কেনার।”

আরও পড়ুন: রেলের টিকিট জালিয়াতি বড়সড় চক্রের পাণ্ডা গ্রেফতার

এরপরে ২০১৩ সালে কণাদ ভট্টাচার্যের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি কেনেন কল্যাণবাবু। তিনি বলেন, “একবার রটে গিয়েছিল বাড়িটি নাকি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। শুনে মুষড়ে পরেছিলাম। তারপর ওঁর কাকার থেকে জানতে পারি বাড়ি বিক্রি হয়নি। ওনাকে বলেছিলাম যে দামই হোক আমি দেব” এককথায় শহীদের বাড়ি কিনতে দৃঢ় সংকল্প ছিলেন কল্যাণ চৌধুরী।

তিনি জানিয়েছেন, ৩/২ বিটি রোদের এই বাড়ি তাঁর জীবনের একটা সম্পদ হয়ে থাকবে। কল্যাণ চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৯৯৭ সালে এই বাড়ি ছেড়ে তাঁরা চলে যান বনহুগলীর কাছে ফ্ল্যাট কিনে। কিন্তু ফৌজির জন্ম এখানেই। ছেলেবেলা এখানেই। এই বাড়ি থেকেই পাড়ি দেওয়া দেশের জন্য সীমান্তে যুদ্ধ করতে। বাড়িকে সুন্দর করে সাজিয়েছেন। ভবিষ্যতে বাড়ির একটি ঘর শুধুমাত্র শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে রাখবার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। চাইছেন প্রশাসনের সাহায্যও।

আরও পড়ুন: মশা মারতে কামান দাগলেন গঙ্গারামপুরের পুরপ্রধান

বিধায়ক মালা সাহা বলেন, “এই বিষয়ে উনি আমাকে কোনওদিন সরাসরি কিছু বলেনি। ওখানে বাস স্ট্যান্ড করবার আবেদন করেছিল। করে দিয়েছিলাম। উনি যদি আমাকে সরাসরি কিছু বলেন তাহলে ভেবে দেখব।”

 

সংরক্ষণশালা হবে কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু কল্যাণবাবুর হৃদয়ে শহীদের জন্য আলাদা করে একটি স্থান সংরক্ষিত হয়ে গিয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: কারগিলের বীর শহিদ স্মরণে মমতাকে ‘টেক্কা’ মোদীর দলের

Advertisement
----
-----