বেঙ্গালুরু: টানাটানির সংসারে অভাব ছিলই। অনাবৃষ্টি দোসর হওয়ায় প্রকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণে জমিতে ফসল ফলাতে গাবাদি পশুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হল কৃষক দম্পতিকে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণের রাজ্য কর্ণাটকে। ওই রাজ্যের কলাবুরাগি এলাকার নন্ধিকুর গ্রামের এক কৃষক এবং তাঁর স্ত্রী কাঁধে লাঙল নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন জমি চাষ করতে। কারণ তাঁদের কোনও গরু নেই। গরু দিয়ে চাষ করানোর মতো আর্থিক সঙ্গতিও তাঁদের নেই।

ওই কৃষকের নাম গুন্ডু সাপুর। তাঁর নিজের কোনও জমি নেই। অন্য একজনের জমিতে চাষ করেন তিনি। এককথায় তিনি ভাগচাষি। নিয়ম অনুসারে জমিতে নিজের খরচে এবং পরিশ্রমে ফসল ফলিয়ে উৎপাদিত ফসলের একটা অংশ জমির মালিককে দিতে হয় ভাগচাষিদের। অনেক ক্ষেত্রে আবার টাকার বিনিময়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমি লিজ নিয়ে চাষ করা যায়।

তেমনই কোনও চুক্তির অংশীদার নন্ধিকুর গ্রামের কৃষক গুন্ডু সাপুর। নিজের গরু না থাকায় স্ত্রীকে নিয়ে লাঙল কাঁধে যিনি মাঠে নেমে পড়েছেন। নিজের গরু না থাকলেও ভাড়ায় পাওয়া যায় চাষ বা অন্যান্য কাজের জন্য। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক দিন এক জোড়া গরুর জন্য এক হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। মাঠে লাঙল দিতে কমপক্ষে চার দিন লাগবে। যার অর্থ মোট চার হাজার টাকা লাগবে গরু দিয়ে জমিতে লাঙল দিতে।

ফসলের বীজ কেনার জন্য কিছু টাকা জমানো আছে। গরু ভাড়া করতে গেলে সেই টাকার প্রায় সবটাই খরচ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থের জোগান নেই গুন্ডু সাপুরের কাছে। তাঁর কথায়, “বীজ কেনার জন্য যা টাকা জমানো আছে। যদি সেটা গরু ভাড়া করতে খরচ করে ফেলি তাহলে আর কিছুই থাকবে না। আর লাঙল দেওয়ার কোনও মানেও থাকবে না।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযগ করেছেন গুন্ডু সাপুর।

গত তিন বছর ধরে অনাবৃষ্টির কারণে কর্ণাটকে এই প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুন্ডু। দিনের বেলায় জমিতে চাষ করার পর বিকেলে অটো চালান তিনি। তাঁর সন্তানেরাও অবসার সময়ে তাকে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন গুন্ডু সাপুর।

----
--