বেঙ্গালুরু: লেকের জলে মিলেছিল এইচআইভি আক্রান্তের দেহ৷ সংক্রমণের আশঙ্কায় সেই জল ব্যবহার করতে অনীহা দেখায় বাসিন্দারা৷ তাই ২৩ একর লেকের জল পাইপের সাহায্যে নিষ্কাশন করা হয়৷

ঘটনাটি কর্ণাটকের হুব্বাল্লি জেলার মোরাব গ্রামে৷ গত ২৯ নভেম্বর গ্রামের একটি লেকের জলে মিলেছিল বছর তিরিশের এক তরুণীর মৃতদেহ৷ লেকের জলে অর্ধগলিত অবস্থায় সেই তরুণীর দেহ ভেসে উঠতে দেখেন গ্রামবাসীরাই৷ লেকের জল এএইচআইভি ভাইরাসে সংক্রামিত হয়েছে এই আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা সেই লেকের জল আর ব্যবহার করতে চাননি৷ উপরন্তু স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লেকের জল নিষ্কাশনের দাবি জানায়৷

যদিও প্রশাসনের তরফে তাদের জানানো হয়, আগে লেকের জল পরীক্ষা করে হবে৷ তাতে কিছু প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ কিন্তু নিজেদের বিশ্বাসে অটল গ্রামবাসীরা প্রশাসনের কথাই কানে তুলতে চায়নি৷ তখন একরকম বাধ্য হয়ে লেকের জল নিষ্কাশনে রাজি হয় প্রশাসন৷ এক প্রশাসনিক কর্তা জানান, গ্রামবাসীরা আটটি ট্যাংক নিয়ে অফিসে হাজির হয়৷ দাবি জানায় যদি প্রশাসন লেকের জল পরিস্কার না করে তাহলে তারাই লেককে জলশূন্য করে দেবে৷ এই অবস্থায় তাদের দাবি মানা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না৷

এরপর বুধবার চারটি মোটর পাম্প ও পাইপের সাহায্যে লেকের জল নিষ্কাশন করা হয়৷ জল পুরোপুরি বের করে দেওয়ার পর মালাপ্রভা খাল থেকে জল এনে সেটি ভরাট করা হয়৷ স্থানীয় এক গ্রামবাসী জানান, এই লেকের জল তারা পানীয় হিসাবে ব্যবহার করেন৷ নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে লেক থেকে সব জল ফেলে দেওয়ার আর্জি জানানো হয় প্রশাসনকে৷

তবে গ্রামবাসীদের এই প্যানিকের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেই জানান চিকিৎসক নাগরাজ৷ তিনি জানান, গবেষণায় জানা গিয়েছে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জলে কোনও ভাইরাস আট ঘণ্টার বেশি সক্রিয় থাকে না৷ মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার ছ’দিন পর লেকের জল ফেলা হয়েছে৷ ততদিন কোনওমতেই ভাইরাস থেকে সংক্রমণের আশা করা যায় না৷