কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন ইস্যুতে ক্ষোভ শ্রীনগরে

শ্রীনগর: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠল শ্রীনগর। শুক্রবার সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর শহরের লালচকের কাছে একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে। ঘটনার সূত্রপাত কিছুদিন আগে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সইদ বৈঠকে বসে ঠিক করেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসন একটি মানবিক সমস্যা৷ আবার রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাটাও জরুরি বিষয়৷ সবদিক খতিয়ে দেখে দুই পক্ষ ঠিক করে যে, উৎখাত-হওয়া কাশ্মীরী পণ্ডিতদের জম্মু-কাশ্মীরে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আলাদা গ্রাম গড়ে সেখানে তাঁদের নয়া বসতি গড়ে তোলা হবে৷ শুধু তাই নয়, যে কোনও সমস্যা এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরো গ্রামকে ঘিরে রাখবে৷ এর পরই এই বিষয় নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা৷ শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) নেতা ইয়াসিন মালিক বুধবারই কার্যত হুমকি দেন, সরকার কাশ্মীরী পণ্ডিতদের জন্য আলাদা বসতি গড়ে তুলে রাজ্যবাসীর মনে শুধু নতুন করে ঘৃণা জন্মাতে চাইছে, ঠিক যেমনটা ইজরায়েল করেছে৷ এর পরেই বৃহস্পতিবার পণ্ডিতদের জন্য আলাদা করে কোনও বসতি গড়া হবে না বলে জানিয়ে দেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সইদ৷ এই অবস্থায় শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সইদ বলেছেন, অভিবাসী পণ্ডিতদের জন্য পৃথক বাসস্থানের কোনও প্রস্তাব আমাদের কাছে আসেনি৷

প্রসঙ্গত, মূলত জঙ্গি উপদ্রব ও হানাদারির জেরে আটের দশক থেকে শুরু করে নয়ের গোড়ার দিকে লক্ষাধিক কাশ্মীরি বর্ণহিন্দু, বিশেষ করে ব্রাহ্মণ, যাঁরা স্থানীয়ভাবে ‘পণ্ডিত’ নামে পরিচিত, তাঁরা উপত্যকা ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হন। ঠিক কোন পটভূমিতে তাদের শত শত বছরের বাসভূমি ছেড়ে আসতে হয়, তা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। নরেন্দ্র মোদী সরকার জানিয়েছে, সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় জম্মু-কাশ্মীরের গুরুত্ব অপরিসীম এবং বিশেষ করে সেখানকার জনসংখ্যার যে অংশটা বিতাড়িত হয়েছে, তাদের জন্য আস্থা ও পুনর্বাসনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ, শরণার্থী জীবন শেষ করে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা যাতে আবার উপত্যকার আপন বাসভূমিতে ফিরে যেতে পারেন সেজন্য সেখানে তাঁদের নতুন প্রজন্মের সরকারি চাকরির বন্দোবস্ত করা হবে, আর্থিকভাবে স্বয়ম্ভর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং সেইসঙ্গে যথোচিত নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

 

Advertisement
---