শ্রীনগর: একজন স্বামী তাঁর স্ত্রী'কে ডিভোর্স দিতেই পারেন। তাই বলে স্ত্রী স্বামীকে ডিভোর্সে দেবে একথা ভাবতেই পারতেন না কাশ্মীরি মহিলারা। তবে এবার বোধহয় সত্যিই দিন পাল্টেছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইতে তাই আর পিছিয়ে নেই রক্ষণশীল সমাজের মেয়েরাও। তাই মাদকাসক্ত স্বামীকে দিনের পর দিন সহ্য করতে না পেরে বিচ্ছেদের পথেই এগোচ্ছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ জন কাশ্মীরি মহিলা তাঁদের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন।

তাদের মধ্যেই একজন রিফত। এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। তিন বছর ধরে স্বামীকে ড্রাগের নেশা ছাড়ানোর বহু চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ড্রাগ নিলেই হিংস্র হয়ে উঠত তাঁর স্বামী। এইসব মহিলাদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে শারিয়া কোর্ট। শুধুমাত্র নিজের সিদ্ধান্তই নয়। দিনের পর দিন বাবা-মা'কেও বোঝাতে হয়েছে নিজেদের কষ্টের কথা। বাবা-মা'কে এও বলেছিলেন যে ড্রাগ ছেড়ে দিলেন তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকতেই পারেন। কিভাবে তাঁরা শারীরিক অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছেন সেটা শুনে বাবা-মা'ও এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন। রিফত বলেন, 'জানিনা কেন পুরুষের এই ধারনা রয়েছে যে কেবলমাত্র তারাই ডিভোর্স দিতে পারে আর মেয়েরা পারেনা।'

Advertisement

শ্রীনগরের শারিয়া কোর্টের প্রধান নাসিরুল ইসলাম বলেন, এই রকম অনেক মামলা দেখেছেন তিনি। অনেক মামলা শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারেনি মেয়েরা। তবে এন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যাতে মেয়েরাও ডিভোর্স দিতে পারছে।' আর এই ঘটনা থেকে এটাও স্পষ্ট যে ক্রমশ ড্রাগ অ্যাডিকশনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে কাশ্মীরে।

 

 

----
--