শ্রীনগর: হুরিয়ত নেতাদের দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে দিল এক কাশ্মীরি যুবক৷ জানাল, তাদের মতো যুবকদের সেনাকে লক্ষ্য করার কাজে ব্যবহার করা হয়৷ সেটা করে হুরিয়ত নেতারাই৷ ওই যুবকের স্বীকারোক্তি স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে হুরিয়ত নেতাদের৷

দিন চারেক আগে সিআরপিএফের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় কইসর ভাট৷ ঘটনার দিন সিআরপিএফের গাড়িতে উঠে বিক্ষোভ দেখায়৷ ওই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় সে৷ সোমবার তার শোকসভায় উপস্থিত হয়ে আর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেনি মৃতের আত্মীয়৷ এই মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে হুরিয়ত নেতাদের দিকে আঙ্গুল তোলে সে৷ পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হয়৷ যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে৷

ভিডিওতে ওই যুবক হুরিয়ত নেতাদের কাশ্মীরি যুবকদের সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারার জন্য ইন্ধন যোগাতে বারণ করেছেন৷ ওই যুবক হুরিয়ত নেতা গিলানির দ্বিচারিতা নিয়েও সরব হয়েছেন৷ জানিয়েছেন, একদিকে গিলানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার মেয়ে সামা সাবিরকে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের কাছে রোল মডেল হিসাবে তুলে ধরছে৷ সেই গিলানি আবার কাশ্মীরি বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের খ্রিষ্টান স্কুলে পাঠাতে বারণ করছেন৷ তিনি কি জানেন না সামা ডিপিএস স্কুলে পড়েছে?

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারা এটিকে হাতিয়ার করে হুরিয়ত নেতাদের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন৷ জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, এটাই হচ্ছে হুরিয়ত নেতাদের আসল চেহারা৷ আস্তে আস্তে তাদের বয়কট করা শুরু করবে উপত্যকাবাসী৷ তিনি বলেন, ‘‘হুরিয়ত নেতারা উপত্যকার গরিব ঘরের ছেলে-মেয়েদের পাথর ছোড়ার কাজে ব্যবহার করছে৷ আর তাদের ঘরের ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে আরামদায়ক জীবন কাটাচ্ছে৷ জম্মু কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী কভিন্দর গুপ্তা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নতার পথ থেকে সরে কাশ্মীরি যুবকরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে৷

তবে ঘটনা হল, প্রথম ভিডিওটির পর আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে৷ সেখানে ওই যুবক হুরিয়ত নেতাদের তাদের পরিবার বলে মন্তব্য করেছে৷ দ্বিতীয় ভিডিওতে ওই যুবক দাবি করেছে, ভাইয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন৷ তাই আবেগপ্রবণ হয়ে হুরিয়ত নেতাদের দোষারোপ করেছেন৷

----
--