এডস আক্রান্ত প্রেমিকের শরীর কোপাল প্রেমিকা

নাইরোবি: সত্য কখনও চাপা থাকে না৷ সেটাই ঘটেছিল ফরিদের ক্ষেত্রে৷ নিজের এডস আক্রান্তের খবর প্রেমিকার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিল সে৷

কিন্তু তাঁর ঘরের হলুদ রঙের একটি কার্ড থেকে প্রেমিকা খুড়ি কেনিয়ার মডেল রুথ কামান্ডে জানতে পারেন ফরিদ এইচআইভি আক্রান্ত! ব্যস, দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা৷ ‘কেন আমাকে ঠকালে’ প্রেমিকার এহেন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে বিধ্বস্ত ফরিদের পাল্টা হুঙ্কার, ‘কাউকে জানালে খুন করে ফেলব৷’’

বচসা থেকে হাতাহাতি৷ পরিস্থিতি এমনই পর্যায়ে পৌঁছায় যে ক্ষিপ্ত ফরিদ রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে রুথকে আঘাত করতে যায়৷ উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে নিরস্ত্র রুথ ফরিদের চোখে আঙুলের নখ দিয়ে আঘাত করলে ছুরি তাঁর হাত থেকে পড়ে যায়৷

- Advertisement -

সুযোগের সৎ ব্যবহার করে রুথ৷ নিজের প্রাণ বাঁচাতে প্রেমিককে খুন করতে বাধ্য হয় সে৷ এক আধ বার নয়, প্রেমিকের মৃত্যু নিশ্চিত করতে টানা ২২ বার ছুরি দিয়ে ফাল ফাল করে ফেলে ফরিদের শরীর৷

পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রুথ৷ তবে বিষয়টি এতদিন তিনি গোপনই রেখেছিলেন৷ ঘটনার ৩ বছর পর আদালতে বিষয়টি সামনে আনে সে৷ আদালতে পুরো ঘটনার বিস্তারিত কবুল করে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বিচারকের কাছে রুথ বলেন, ‘‘আমি ওকে খুব ভালবাসতাম৷ কিন্তু ও আমাকে এভাবে ঠকাবে ভাবতে পারিনি৷’’ খানিক থেমে দলাপাকানো কন্ঠে বিচারককে বলেছেন, ‘‘বিশ্বাস করুন, আমি ওকে খুন করতে চাইনি৷ নিজের প্রাণ বাঁচাতেই আমি ওকে খুন করতে বাধ্য হয়েছি৷ না হলে ওই যে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতো!’’

প্রেমিক- প্রেমিকার ২০১৫ সালের এহেন ভয়ঙ্কর ঘটনা তিন বছর পর প্রকাশ্যে আসায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আদালত থেকে মিস লাঙ্গাটা সংশোধনাগারে৷ বর্তমানে ওই সংশোধনাগারেই ঠাঁই হয়েছে রুথের৷ তাঁর বয়ফ্রেন্ড ফরিদ মহম্মদ ছিলেন এইচআইভির পজিটিভ৷

প্রেমিককে খুন করলেও আজও তাঁকে মিস করেন, নিজেই সেকথা জানিয়েছেন রুথ৷ ইতিমধ্যে সংশোধনাগারে তাঁর মানসিক ‘কাউন্সেলিংও হয়েছে৷ সময়ের দৌলতে এখন সে অনেকটা স্বাভাবিক৷ এমনকি ২০১৬ সালে লাঙ্গাটা সংশোধনাগারের তরফে তাঁকে ‘মিস লাঙ্গাটা প্রিজন’ উপাধীও দেওয়া হয়৷ তখন থেকেই সংশোধনাগারের অন্দরে রুথকে সকলে ডাকেন ‘সেক্সিয়েস্ট প্রিজনার’ বলে৷

Advertisement
---