কোচি: ভাসছে কেরল৷ ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা ২৯ থেকে বেড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭৷ ১৪ জেলার মধ্যে ১১টি পুরোপুরি ভেসে গিয়েছে৷ শনিবার হেলিকপ্টারে বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তারপরেই লাল সতর্কতা জারি হয়েছে ১১ জেলায়৷ পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে৷ ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত জারি হয়েছে লাল সতর্কতা৷ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর৷ এখনও ভারী বৃষ্টি বিভিন্ন এলাকায়৷

আলেপ্পি,কোটায়াম, এরনাকুলাম, পালাক্কাড়, মালাপ্পুরাম, কোজিকোরের বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়৷ ভারী বৃষ্টি অনূবরত হয়ে যাওয়ায় জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে৷ মোট ৮টি জেলায় বিশেষ লাল সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন৷ শুক্রবার থেকে বুধবার পর্যন্ত জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট৷ তবে কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে
তৎপর মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন৷

Advertisement

বিভিন্ন খাতে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি৷ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যাঁরা গৃহহীন তাঁদের ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন তিনি৷ যাঁরা নিজেদের জমি ও ঘর দুটোই হারিয়েছেন তাঁদের মোট ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে৷ যেখানে ৬ লক্ষ টাকা জমি কেনার, ৪ লক্ষ টাকা বাড়ি বানানোর৷ বন্যার্তদের মধ্যে যাদের গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে গিয়েছে তাদের বিনামূল্যে নথি তৈরির আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন৷

কেরলের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে রাজনৈতিক দোষারোরপ নয় বরং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই পরিদর্শনে যান বিরোধী দল নেতা রমেশ চেন্নিথালা৷ মুখ্যমন্ত্রী ফান্ডে বিজয়ন ব্যক্তিগত ভাবে ১ লক্ষ টাকা দিয়েছেন৷ এবং প্রত্যেক নেতা, মন্ত্রীকে ব্যক্তিগত ভাবে অনুদানের অনুরোধ জানিয়েছেন৷ ফেসবুকে অনুদানের অনুরোধে তিনি বলেন,
ভয়ানক বন্যায় বিধ্বস্ত কেরল৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমাদের এক জোটে কাজে নামতে হবে৷ আমি সবাইকে মুখ্যমন্ত্রীর ফান্ডে আর্থিক অনুদানের অনুরোধ জানাচ্ছি’৷ মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধের পরই কেরলকে ১ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করে পুদুচেরি প্রশাসন৷

ক্ষতিগ্রস্তরা বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন৷ সেখানেই প্রশাসনের তরফে সমস্তরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখে কেরলের কংগ্রেস কর্মীদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাহুল গান্ধি৷ শুক্রবারই পেরিয়ার নদী এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ এরনাকুলামের ৭৮টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন৷ এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে কেরলে, গৃহহীন প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ৷ গত ২৬ বছরের মধ্যে এত ভয়ানক বন্যার সম্মুখীন হয়নি কেরল বলে জানা যাচ্ছে৷

 

 

----
--