বন্যা বিধ্বস্ত কেরলে ভাসমান পর্যটন ব্যবসা

বিশেষ প্রতিবেদন: কতটা ঘাটতি, তা এখনও বলা কঠিন৷ বন্যা বিধ্বস্ত কেরলে তছনছ হচ্ছে পর্যটন ব্যবসা৷ ঘাটতির পরিমান হিসেব করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে পর্যটন দফতর৷ প্রথমে নিপা তারপর বন্যা, জোড়া ধাক্কায় ‘ভগবানের নিজ ভূম’ধুকছে৷ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজ্যের পর্যটন৷ যার উপর নির্ভরশীল রাজ্যের অধিকাংশ গুজরান৷

ইতিমধ্যে পাঁচ শতাংশ ঘাটতিতে কেরলের পর্যটন শিল্প৷ বন্যার কারণে, বাতিল হচ্ছে হোটেল, হোম স্টে বুকিং৷ গত ২ সপ্তাহ ধরে জলের তলায় কোচি, মূলত কোচি থেকেই সমস্ত বুকিং হয়৷ বন্যার ফলে সমস্ত বুকিং একে একে বাতিল হচ্ছে৷ ১৬ অগাস্ট থেকে বন্ধ কোচি বিমানবন্দর৷ আশা করা যাচ্ছে ২৯ অগাস্ট থেকে বিমানবন্দর চালু হবে৷ ততদিনে বেশিরভাগ বুকিং বাতিল হয়ে যাবে বলে জানাচ্ছে পর্যটন দফতর৷ ২ সপ্তাহ ধরে গোটা এরনাকুলাম ও কোচি এলাকার জলছবি এতটাই ভয়াবহ যে হোটেল থেকে হোম স্টে, পুরোটাই জলের তলায়৷ ফোর্ট কোচি এরনাকুলামের মূল পর্যটনস্থল৷ সেখানকার অবস্থাও একইরকম৷ এই পরিস্থিতিতে পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাই কেরলের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷

- Advertisement -

পড়ুন:কেরল: ওনামে ভর করে বন্যার দুঃখ ভুলছে ভগবানের দেশ

রিপোর্ট অনুসারে, কেরলের ৫২ শতাংশ পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত৷ প্রথমে নিপা, এখন বন্যা৷ দফায় দফায় ক্ষতির মুখে পড়েছে কেরলের পর্যটন ব্যবসা৷ ২০১৭ সালে পর্যটনে ১০.৯৪ শতাংশ আর্থিক লাভের মুখ দেখে কেরল৷ ১.৯১ মিলিয়ন দেশের ও ১৪.৬ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটকে সমৃদ্ধ হয় রাজ্যটি৷ এর ফলে আরর্থিক বৃদ্ধির সূচকও বৃদ্ধি পায়৷ তার উপর ১২ বছর পর কেরলের একমাত্র পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র মুন্নারে নীলকুরনিজি ফুল ফোটায়, পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায়৷ এই ফুল অক্টোবর পর্যন্ত মুন্নারের প্রাকৃতিক শোভাকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয়, তারপরেই ঝড়ে যায়৷ তাই, অগাস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কেরল পর্যটকে ঠাসা থাকে৷

বন্যায়, ছবির উলোটপুরান ঠিক এইখানেই৷ নীলকুরনিজি ১২ বছর পর পর্যটনের পালে হাওয়া লাগিয়ে এলেও, বিধ্বংসী বন্যায় সময়ের আগেই ফুলগুলি ঝড়ে যায়৷ ভূমি ধসে কুরনিজি এখন অমিল৷ থমকে গিয়েছে কেরলের স্নেক বোট প্রতিযোগিতাও, যা অগাস্টের মাঝামাঝিতে কেরলে হয়ে থাকে৷ অক্টোবরের মধ্যে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে তাও বলা যাচ্ছে না৷ কারণ, ঘুরে দাঁড়াতে কেরলের প্রয়োজন কেন্দ্রের পর্যাপ্ত অনুদানের৷ ৬০০ কোটির অনুদান কেন্দ্র ঘোষণা করলেও, দফায় দফায় ক্ষতির খতিয়ান না দেখালে অনুদানের টাকা আসতেও দেরি হবে৷ কেন্দ্রীয় অনুদানের টাকা দফায় দফায় আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে৷ ঘর সংস্কার করার টাকাই জোটাতে পারছে না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি৷ এই সব পেরিয়ে কেরলের পর্যটন কবে বা কতটা ঘুরে দাঁড়াবে তা জানা নেই প্রশাসনের৷ শুধু ঘাটতি মেটাতেই আপাতত তৎপর বিজয়ন সরকার৷

Advertisement ---
---
-----