ধর্ষিতা সন্ন্যাসিনীকে দেহ ব্যবসায়ী বলে বিতর্কে কেরল বিধায়ক

প্রতীকী ছবি

তিরুঅনন্তপুরম: রোমান ক্যাথলিক বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কেলের হাতে ধর্ষিতা এক সন্ন্যাসিনীকে দেহ ব্যবসায়ী বলে বিতর্কে জড়ালেন এক নির্দল বিধায়ক৷ পি সি জর্জ নামে এক নির্দল বিধায়ক দাবি করেন, ওই সন্ন্যাসিনী ১২ বার বিশপের সঙ্গে যৌন সংস্রবে মিলিত হয়েছেন৷ কিন্তু ১৩ বারের মাথায় তিনি বিশপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন৷ এরপরই ওই সন্ন্যাসিনীর চরিত্রের উপর আঙ্গুল তুলে তাঁকে দেহ ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেন পি সি জর্জ৷

সন্ন্যাসিনী ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল কেরল৷ উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়৷ তারই মধ্যে নির্দল বিধায়কের এই মন্তব্য আরও শোরগোল ফেলে দিয়েছে কেরল জুড়ে৷ এই বিতর্কের মাঝেই নির্দল বিধায়কের প্রশ্ন ওই সন্ন্যাসিনী প্রথমবার ধর্ষণ হওয়ার পর কেন অভিযোগ জানাননি? বলেন, ‘‘এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ওই সন্ন্যাসিনী একজন দেহ ব্যবসায়ী৷ ১২বার তিনি যৌন সংস্রবে মিলিত হয়েছে৷ আর ১৩ বারের মাথায় সেটা ধর্ষণ হয়ে গেল৷ কেন তিনি প্রথমেই অভিযোগ জানালেন না?’’

ঘটনা হল জুন মাসে কুরাভিলাঙ্গদ পুলিশ থানায় বিশপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন ওই সন্ন্যাসিনী৷ পুলিশের কাছে অভিযোগে তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করেন রোমান ক্যাথলিক বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কেল৷ অস্বাভাবিক যৌনাচার করেন তাঁর সঙ্গে৷ কিন্তু অভিযোগ জানানোর দু’মাস আগে থেকে তিনি খুনের হুমকি পাচ্ছিলেন৷ অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তাঁকে হুমকি দিচ্ছিল৷ পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের ব্যাপারে নিশ্চয়তা মিলেছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, বিশপ নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সন্ন্যাসিনীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন৷ আরও জানা গিয়েছে, কোট্টায়াম জেলার কুরাভিলানাজ্ঞদের সেন্ট ফ্রান্সিস মিশন হোমের একটি গেস্ট রুমে ওই সন্ন্যাসিনীকে আটকে রেখে নির্যাতন করেন।

- Advertisement -

এদিকে শনিবার সকালে সন্ন্যাসিনী ধর্ষণের ঘটনায় জলন্ধর এলাকার রোমান ক্যাথলিক বিশপ ফ্রাঙ্কো মুলাক্কেলকে গ্রেফতারির দাবিতে পথে নামে কোচির সন্ন্যাসিনীরা। যুগ্ম খ্রিষ্টান কাউন্সিলের ডাকে শহরের হাই কোর্ট জাঙ্কশনের বাসস্টপের কাছে প্রতিবাদে মুখর হন তাঁরা। ঘটনার কেন্দ্রস্থল কোট্টায়ামের একটি আশ্রম। এখানেই বিশপ মুলাক্কেল এক সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। সেই আশ্রমের পাঁচজন সন্ন্যাসিনীও এই প্রতিবাদে অংশ নেন। অভিযোগ, আক্রান্ত ওই সন্ন্যাসিনীর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়নি কেউ। চার্চ, পুলিশ,প্রশাসন সুবিচারের আশায় সবার দরজায় কড়া নাড়লেও আদতে কিছুই লাভ হয়নি।

কোট্টায়ামের এক সন্ন্যাসিনী জানিয়েছেন,’আমরা আমাদের বোনের জন্য লড়াই করব।যে কোনো মুল্যে এর শেষ দেখে ছাড়ব আমরা। বিশপ ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ’। এর পাশাপাশি চার্চের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ৭৪ দিন আগে বিশপ ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও মাত্র একবার পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ পুলিশ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের এই প্রতিবাদে পাশে দাঁড়িয়েছে আরও বেশ কিছু সংগঠন।

Advertisement ---
---
-----