বুদ্ধিমত্তা না থাকলে সৌন্দর্য কিছুই নয়

রূপচর্চা তো মেয়ে মাত্রেই করে থাকেন। কিন্তু, ইনি সেই রূপচর্চাকেই অন্য সংজ্ঞা দিয়েছেন। নিয়ে গিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানে। তাঁর নাম বললে আর আলাদা করে কোনও পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে ঘরে তাঁর প্রোডাক্ট। তাঁর এই সাফল্যের চাবিকাঠিটা কি? কতটা স্ট্রাগল করতে হয়েছে তাঁকে? অ্যারোমাথেরাপিস্ট কেয়া শেঠের কাছে সেইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেন দেবযানী সরকার।

কলকাতা২৪x৭: মেয়েদের রূপচর্চা নিয়ে বরাবরই একটা হাসি-তামাশা হয়৷ আপনি সেটাকে একটা নিউ ডায়মেনশন দিয়েছেন৷ এটা কী সচেতন ভাবেই?
কেয়া শেঠ: আমার মনে হয় না এখন আর মেয়েদের রূপচর্চা নিয়ে হাসি-তামাশা হয়৷ মেয়েরা সবার সামনে সাজে আর ছেলেরা আড়ালে সাজে৷ সাজতে কে ভালোবাসেন না বলুন তো? তবে সাজগোজের ব্যাপারে এখন মেয়েরা অনেক বেশী সচেতন হয়েছে৷ এখনকার মেয়েরা সঠিকভাবে স্কিন, চুলের যত্ন নিতে শিখেছে৷ সুস্থ থাকতে এটা খুব প্রয়োজন৷ আমি সচেতনভাবেই এই বিষয়টায় এগিয়ে এসেছি কারণ আমি মনে করি, আমরা যেমন হাইজেনিক কারণে দাঁত মাজি সেরকমই হাইজেনিক কারনেই স্কিন বা চুলের যত্নও নেওয়া উচিত৷keya seth 3
কলকাতা২৪x৭: ‘পহলে দর্শনধারী, বাদ মে গুনবিচারি’ এই প্রবাদবাক্যটা কী আপনি বিশ্বাস করেন?
কেয়া শেঠ: ৯০ শতাংশ বিশ্বাস করি৷ দেখুন, একটা গোলগাল ফর্সা বাচ্চার গাল টিপেই কিন্তু আদর করি৷ সুন্দর দেখতে ছেলেমেয়েদের প্রতিই কিন্তু আমরা বেশী আকৃষ্ট হই৷ তবে এটাও ঠিক, ট্যালেন্ট, বুদ্ধিমত্তা না থাকলে শুধুমাত্র সুন্দর দেখা দিয়ে কিছু হয় না৷ আমি মনে করি, ঝকঝকে ত্বক ও সুন্দর চুল পারসোনালিটিকে বুস্ট আপ করে৷
কলকাতা২৪x৭: রূপচর্চার প্রতি নিজের ভালোলাগা থেকেই কী এই পেশাকে বেছে নেওয়া?
কেয়া শেঠ: তা তো বটেই৷ তবে আমি যে খুব রূপচর্চা করি এমনটা নয়৷ আমি অন্যদেরও বলি যতটা প্রয়োজন ততটা করতে৷ কোনও কিছুরই অতিরিক্ত ভালো না৷
কলকাতা২৪x৭: আপনার রূপচর্চার এই সেন্সটা কি মায়ের থেকে পাওয়া?
keya sethকেয়া শেঠ: না না৷ আমার ছোট থেকেই সাজগোজের প্রতি সেন্স ছিল৷ আমি নিজে খুব ভালো নিজের মেকআপ করতাম৷
কলকাতা২৪x৭: সিনেমার নায়িকাদের মতো গ্ল্যামারাস হওয়ার একটা প্রবল ইচ্ছা মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়৷ এরজন্য অনেক মহিলাই অনেক কসরৎ করেন৷ এটাকে কি আপনি সাপোর্ট করেন?
কেয়া শেঠ: দেখুন, নিজেকে সুস্থ, পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে রাখার জন্য যতটা রূপচর্চা করা প্রয়োজন ততটাই করা উচিত৷ নায়িকাদের পিছনে দৌড়নোকে আমি একদম সাপোর্ট করি না৷ নায়িকাদের বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অনেক আর্টিফিসিয়াল জিনিসের ওপর নির্ভর করতে হয়৷ আপনি বলুন তো, সিনেমায় যাদের আমরা দেখি তাদের মধ্যে কটা নায়িকার চুল অতো লম্বা, বাউন্সি?
কলকাতা২৪x৭: কেয়া শেঠ ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে কতটা স্ট্রাগল করতে হয়েছে?
কেয়া শেঠ: স্ট্রাগল তো এখনও করতে হচ্ছে৷ তবে অ্যারোমাথেরাপি কি সেটা আমি মানুষ বোঝাতে পেরেছি৷ প্রাচীন একটা জিনিসকে আমি আবার ফিরিয়ে এনেছি৷ মানুষের আস্থা অর্জন করাটাই একটা কঠিন কাজ৷ তবে শেষপর্যন্ত আমি সেটাতে সফল হয়েছি৷ প্রথমে আমার একটা পার্লার ছিল৷ তারপর সেখান থেকে আমি প্রোডাক্টে আসি, এরপর স্পা৷ স্পায়ের পর মেডি স্পা৷
কলকাতা২৪x৭: কেয়া শেঠের ব্যান্ডের ইউনিকনেসটা কী?
কেয়া শেঠ: অন্যান্য হারবাল প্রোডাক্টের মতো অ্যারোমাথেরাপি প্রিজারভেশনের দরকার পড়ে না৷ এসেনশিয়াস ওয়েলই ওটাকে প্রিজার্ভ করে৷1969240_769228373087489_1376109437_n
কলকাতা২৪x৭: বিজ্ঞাপনে আপনার পাশাপাশি আপনার মেয়েকেও দেখা যাচ্ছে৷ এটা কি আপনাদের বিজনেস স্ট্র্যাটেজি না কি আপনার মেয়েরও এই বিষয়টায় ইন্টারেস্ট রয়েছে?
কেয়া শেঠ: আমরা এব্যাপারে কখনই ওকে জোর করি নি৷ আমি মনে করি একমাত্র মা পারে তাঁর সন্তানকে সুন্দর তৈরি করতে৷ আমি ছোট থেকেই ওর চুল, ত্বকের যত্ন নিয়েছি৷ আমি খুব জোর দিয়ে বলতে পারি, এখনকার অনেক নায়িকাদের থেকে আমার মেয়ের চুল ভালো৷ নিজের মেয়েরই যখন এত সুন্দর চুল তখন কেন আমি বাইরে থেকে মডেলকে দিয়ে বিজ্ঞাপন করাবো৷ আর ওর এবিষয়ে যথেষ্ট ইন্টারেস্ট আছে৷ ও লন্ডনে এখন বিউটি নিয়েই ওপর পড়াশোনা করছে৷ মিষ্টি কেয়া শেঠের থেকে কয়েকগুন ভাল অ্যারোমাথেরাপিস্ট হবে বলে আমি মনে করি৷
কলকাতা২৪x৭: নিজের কোন জিনিসটা আপনার বেশী প্রিয়?
কেয়া শেঠ: আমার পারসোনালিটি৷
কলকাতা২৪x৭: হবি কি?
কেয়া শেঠ: আমার ক্রিয়েটিভ কাজ করতে ভালো লাগে৷ পেইন্টিং আমার হবি বলা যায়৷
কলকাতা২৪x৭: যদি অ্যারোমাথেরাপিস্ট না হতেন তাহলে কী করতেন?
কেয়া শেঠ: তাহলে হয়তো ডিজাইনার হতাম৷ যেহেতু আমার পেইন্টিং ভালো লাগে৷ বলতে পারেন, ডিজাইনার হওয়ার ইচ্ছা ছিল বলেই হয়তো আমি ডিজাইনার ওয়্যারের মল করার কথা ভেবেছি৷

Advertisement ---
---
-----