খাদিম কর্তা অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আট, রায়দান সোমবার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আজ, শুক্রবার খাদিমকর্তা পার্থপ্রতিম রায় বর্মণ অপহরণ মামলার অভিযুক্ত ৮জনকেই দোষী সাব্যস্ত করল আলিপুর আদালত৷ আগামী সোমবার মামলার চূড়ান্ত রায় দান করবেন এই মামলার জন্য গঠিত বিশেষ আদালতের বিচারক অরুণ কিরণ বন্দোপাধ্যায়৷
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৪ (এ), ৩৪২ ও ১২০(বি) ধারায় মামলা রয়েছে৷ সরকারি আইনজীবী নবকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৪(এ) ধারায় সর্বোচ্চ সাজার বিধান রয়েছে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন৷ আশাকরছি, মহামান্য আদালত দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা দেবেন৷’’

আদালত সূত্রে খবর, সোমবার দোষী সাব্যস্ত আট জনের কাছে তাদের বক্তব্য শোনার পর ২৬৫ পাতার জাজমেন্টের চূড়ান্ত রায়দান করবেন বিচারক৷ সিআইডি ডিএসপি পদ মর্যাদার অবসর প্রাপ্ত অফিসার তথা এই মামলার তদন্তকারী অফিসার মহম্মদ আব্দুল রসিদ, ‘‘অভিযুক্তদের প্রত্যেকেই ওই অপহরণ কাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন৷ আদালতে তার যাবতী নথি পেশ করার পরই বিচারক অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেছেন৷’’

পড়ুন: আজ খাদিম কর্তা অপহরণ মামলার রায়দান

২০০১ সালের ২৫শে জুলাই তিলজলার বাড়ি থেকে বেরিয়ে লেদার কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে অপহরণ হন খাদিম কর্তা পার্থপ্রতিম রায় বর্মণ৷ একটি মারুতি ভ্যানে করে তাকে নিয়ে চম্পট দেয় অপহরণকারীরা৷ খাদিম কর্তার মুক্তির জন্য ২০ কোটি টাকা দাবি করে তারা৷ শেষ পর্যন্ত পাঁচ কোটি টাকাতে রফা হয়৷ ছাড়া পান পার্থবাবু৷ তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অপহরণের ছক কষা হয়েছিল বসিরহাটের একটি ভাড়া বাড়িতে বসে৷

প্রথম পর্যায়ে মামলার রায়দান হয়েছিল ২০০৯ সালে৷ উল্লেখযোগ্য অপরাধীদের মধ্যে ছিল আফতাব আনসারি সহ পাঁচজন৷ সকলেরই যাবজ্জীবন হয়েছিল৷ এরপর শুরু হয় তদন্ত৷ পরবর্তীকালে পুলিশের হাত থেকে মামলার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়৷ সিআইডি এই ঘটনায় জড়িত আট জনকে গ্রেফতার করে৷ ধৃতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের নাগরিক৷ এরা হল আরসাদ ওরফে আসলাম, দিলসাদ ওরফে মহম্মদ ইশা এবং তারিক মেহমুদ ওরফে নঈম৷ বাকি পাঁচজন- মুম্বইয়ের বাসিন্দা সাহবাজ, হরিয়ানার বাসিন্দা পালোয়ান, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসিন্দা জালালউদ্দিন এবং উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দা মোজাম্মেল শেখ ও মিজানুর রহমান৷

পড়ুন: খাদিমের লক্ষ্য শেয়ার ছেড়ে ৫৪৩ কোটি টাকা তোলার

অপরাধ জগতের ‘হাই-প্রোফাইল’ এই অভিযুক্তদের জন্য নজিরবিহীনভাবে আলিপুর সংশোধনাগারের ভিতরেই গঠিত হয় বিশেষ আদালত৷ সোমবার সেখানেই চূড়ান্ত রায়দান করবেন বিচারক৷ প্রসঙ্গত, বিভিন্ন কারণে এই মামলা বিলম্বিত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়৷ গত ৩০ নভেম্বর ওই মামলার রায়দান হওয়ার কথা ছিল৷ যদিও সেদিন রায়দান পিছিয়ে আদালত জানিয়েছিল, ৮ডিসেম্বর এই মামলার রায় দান করা হবে৷ এদিন বিচারক অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করায় দীর্ঘ ১৬ বছরের মামলার ইতি পড়তে চলেছে আগামী সোমবার৷৷

---- -----