খাগড়াগড় বিস্ফোরণ: জামাত জঙ্গি বোমা মিজানকে ফেরত চাইবে ঢাকা

ঢাকা:  ভারতে ধৃত জামাত উল মুজাহিদিন ইন্ডিয়া (জেএমআই) শাখার আমির (প্রধান) বোমা মিজানকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ সরকার৷ এমই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল৷ তিনি বলেন, যেহেতু দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে তাই তাকে অবশ্যই ফেরানো হবে৷ বেঙ্গালুরু থেকে এই জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ৷

এই বাংলাদেশি জঙ্গিকে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় পুলিশের ভ্যান থেকেই ছিনিয়ে নিয়েছিল জেএমবি জঙ্গিরা৷ পরে সীমান্ত পেরিয়ে সে প্রতিবেশী দেশে চলে যায়৷ আর ভারতে বসে বাংলাদেশে নাশকতা ছড়ানোর লক্ষ্যে বিশাল জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল বোমা মিজান ওরফে কওসর ওরফে জাহিদুল ইসলাম৷ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলা (বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান) সদর শহর বর্ধমানের উপকণ্ঠে খাগড়াগড়ে ছিল তার মূল ঘাঁটি৷ ২১০৪ সালের ২ অক্টোবর দুর্গাপুজোর সময় সেই বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়৷ প্রাথমিকভাবে সেটি দুর্ঘটনা মনে হলেও পরে তদন্তে উঠে আসে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জেএমবি সংযোগ৷ তখন থেকেই নিখোঁজ ছিল কওসর ওরফে বোমা মিজান৷

পড়ুন আরও- খাগড়াগড় বিস্ফোরণ চক্রী নাসিরুল্লার পর টার্গেটে সালাউদ্দিন

- Advertisement -

বিভিন্ন নাশকতার মামলায় বোমা মিজানের মাথার দাম বাংলাদেশে পাঁচ লক্ষ টাকা৷ ২০০৭ সালে কক্সবাজার বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার, ঝিনাইদহে বোমা তৈরির সরঞ্জাম রাখা, চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলা সহ একাধিক মামলায় এই শীর্ষ জঙ্গি নেতার নাম জড়িয়ে৷ তাকে জেরা করতে চাইছেন গোয়েন্দারা৷

বোমা মিজান ভারতে আত্মগোপন করে জেএমবি সংগঠনের ভারতীয় শাখা জেএমআই তৈরি করেচিল৷ সংগঠনের প্রদান হিসেবে দীর্ঘদিন তার কর্মতৎপরতা চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায়৷ এছাড়া জঙ্গি নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছিল বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ে৷ কিন্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় সেই জঙ্গি ডেরা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে এনআইএ-র হাতে৷

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা বেঙ্গালুরুর রামনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে৷ বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দলাই লামাকে খুন করার পরিকল্পনাও নিয়েছিল বোমা মিজান৷

Advertisement ---
---
-----