কলকাতা: আইপিএল ও আইএসএল-এর  দৌলতে এদেশে খেলাধূলার সামগ্রিক চিত্রটা না-পালটালেও কোথাও একটা পরিবর্তন এসেছে৷ বিশ্বের সেরার সেরারা খেলতে আসছেন ভারতে৷ অবশ্যই কলকাতাও সেই স্বাদের পুরোমাত্রায় ভাগীদার৷ আর সেই স্বাদের ছোঁয়া এবার সিনে উৎসবেও৷ এই প্রথমবার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে শুধু খেলাধুলার জন্যই চালু হয়েছে আলাদা একটি বিভাগ৷

‘ফুটবলের নতুন রাষ্ট্র’ আইএসএল-এর জন্ম হয়েছে এ শহরেই৷ আপাদমস্তক খেলাপাগল হলেও, এ শহরে খেলার জন্য চলচ্চিত্র উৎসব তো দূরের কথা, চলচ্চিত্র উৎসবেও শুধুমাত্র খেলার জন্য আলাদা বিভাগ করার কথা কোনওদিন ভাবা হয়নি৷ লন্ডনে হয়, লস অ্যাঞ্জেলসের মানুষ তাই ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসবের স্বাদ পেলেও, কলকাতা বরাবর বঞ্চিতই থেকেছে৷তবে এবছর খানিকটা হলেও সে সাধ পূরণ হতে চলেছে৷kiff-image

Advertisement

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসবের স্বাদ পাওয়া না-গেলেও কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ২১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ‘ফিল্মস অন স্পোর্টস’ বলে একটা বিভাগ রাখা হয়েছে৷ দেখানো হবে সাতটি ছবি৷ যার মধ্যে রয়েছে ‘ভাগ মিলখা ভাগ’, ‘কোনি’, ‘ব্রেকিং অ্যাওয়ে’, ‘চ্যারিয়টস অফ ফায়ার’, ‘রেগিং বুলস’, ‘এসকেপ টু ভিক্টরি’ ও ‘দ্য ন্যাচেরাল’৷

mixed

সাতটি ছবিই এককথায় অসাধারণ৷ ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ ও ‘কোনি’ নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু দরকার নেই৷ রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা নির্দেশিত ও ফারহান আখতার অভিনীত মিলখা সিংয়ের বায়োপিকটি নিসন্দেহে ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রথমসারিতেই থাকবে৷ অন্যদিকে, সরোজ দে’র পরিচালিত ‘কোনি’ জাতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছিল৷ কোনির চরিত্রে শ্রীপর্ণা বন্দোপাধ্যায় ও কোনির ট্রেনারের চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ওরফে ক্ষিদ্দার দুর্দান্ত অভিনয় আজও বাঙালি দর্শক যেন চোখ বুজেও দেখতে পান৷ আজও ‘ফাইট কোনি ফাইট’ শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে৷

ব্রেকিং অ্যাওয়ে-ছবির জন্য পরিচালক পিটার ইয়েটস গোল্ডেন গ্লোব ও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড ছিনিয়ে এনেছিলেন৷ চার বন্ধুর বাইসাইকেল রেসিংয়ের মধ্যে দিয়ে স্বপ্নপূণের গল্প শুনিয়েছেন তিনি৷ হিউজ হাডসনের ‘চ্যারিয়টস অফ ফায়ার’ নিঃসন্দেহে খেলা নিয়ে তৈরি হওয়া ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা৷ দুই অলিম্পিক অ্যাথলিটের জীবন ও তাঁদের লক্ষ্যপূরণের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে হাডসন গোল্ডেন গ্লোব ও বাফটা ছিনিয়ে এনেছিলেন৷

এবার আসা যাক মার্টিন স্করসেসির ‘রেগিং বুল’-এ৷ একজন প্রতিভাবান বক্সারকে কীভাবে তাঁর রাগ, যৌনতা ও ঈর্ষা শেষ করে দিতে পারে, সেটাই দেখিয়েছেন মার্কিনি পরিচালক৷ এর সঙ্গে বক্সারের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের টানাপোড়েনও তুলে ধরেছেন স্করসেসি৷রবার্ট ডি নিরোর অভিনয় ছবিতে আলাদা মাত্রা সংযোজন করেছে৷

poster_ragingbull

জন হাসটনের ‘এসকেপ টু ভিক্টরি’তে সিলভারস্টার স্টেলন নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জেলের বন্দীদের নিয়ে ফুটবল ম্যাচ খেলানোর গল্প বলছেন হাসটন৷ যে ছবি দেখে পেলে ও ববি মুরের মতো ফুটবলাররা নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি৷ ব্যারি লেভিনসনের ‘দ্য ন্যাচেরাল’ শুনিয়েছে ছোটবেলার স্বপ্নপূরণের গল্প৷ রয় হবসকে বেসবলের সুপারস্টার হওয়া থেকে কেউই শেষ পর্যন্ত আটকাতে পারেনি৷ প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার কাহিনি৷

খেলা নিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবের এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে৷ সিনেমার মতো গণমাধ্যম যদি খেলাধুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ ছড়িয়ে দেয়, তবে তার থেকে ভালো আর কিছু হতে পারে না৷ বাংলার ক্রীড়াসংস্কৃতির ক্ষেত্রেই আখেরে তা লাভজনক হয়ে উঠবে৷ সেইসঙ্গে এই আলাদা বিভাগই হয়ত ভবিষ্যতে শুধু খোলাধুলো বিষয়ক ছবি নিয়ে একটি আলাদা চলচ্চিত্র উৎসবের বীজ বুনে দিল- এ আশা করাই যায়৷

----
--