দিল্লিতে শিক্ষিকা খুনের ঘটনার কিনারা, ধৃত স্বামী

নয়াদিল্লি: দিল্লির রোহিনী এলাকায় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শিক্ষিকা খুনের ঘটনার কিনারা করল পুলিশ৷ শিক্ষিকার স্বামীই তার খুন করেন৷ শিক্ষিকা আগেই তার স্বামীর বিরুদ্ধে পণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন এমনকি তিনি বিবাহবিচ্ছেদের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন৷ এরপরই তার স্বামী তাকে খুন করে৷ খুনের পর অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে যায় ও সাধুর বেশ ধারণ করে৷ শেষমেশ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে৷

রোহিনীর সেক্টর ২৩এ ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কৌমুদি নামের ওই শিক্ষিকার মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল৷ মহিলার গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়েছিল৷ মহিলার মাথায় ও গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় খুনের কথা স্পষ্ট হলেও ঘরের জিনিস পত্র ওলট পালট থাকায় পুলিশ প্রাথমিক অনুমান করে যে কেউ লুঠপাঠের চক্করে মহিলার খুন করেছে৷ কিন্তু এমন হিংস্রভাবে খুন করা হয়েছিল যা দেখে পুলিশ বুঝতে পারে কেউ নিজের সমস্ত রাগের প্রতিশোধ নিতেই খুন করেছে৷ সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা ছিল ওই শিক্ষিকার স্বামী হেমন্ত খুনের পর থেকেই উধাও ছিল৷

ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ হওয়ার কারণে পুলিশ মনে করে যে খুনের পিছনে ঘরের কোন লোকের হাত রয়েছে৷ শিক্ষিকার খুনের কোন সুত্র না পেলেও তার স্বামীর নিরুদ্দেশের ঘটনায় পুলিশের সন্দেহ তার স্বামীর উপরেও ছিল৷ শিক্ষিকার ভাই যখন তার দিদির খুনের পিছনের দিদির স্বামীর দিকে সন্দেহের তীর ছোঁড়েন পুলিশ তখনও আরও বেশি করে নিশ্চিত হন৷ কিন্তু মৃত শিক্ষিকার স্বামীর কোন হদিশ পাচ্ছিলনা পুলিশ৷ তখনই পুলিশ জানতে পারে শিক্ষিকার স্বামী সাধুর বেশে উত্তরাখন্ডের কোটদ্বারে লুকিয়ে রয়েছে৷ ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে৷

খুনিকে ধরার জন্য পুলিশ ৫০,০০০ টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করে৷ পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য হেমন্ত সাধুর মতো সেজে চারধাম যাত্রা শুরু করেছিল৷ কিন্তু ক্রাইমব্রাঞ্চ এই বহুরূপীকে ধরে ফেলে৷ অ্যাডিশনাল সিপি ক্রাইম অকোশ চন্দ জানিয়েছেন, স্বামী স্ত্রীদের মধ্যে বিবাহিত জীবনে বিভিন্ন সমস্যা চলছিল৷ পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই অভিযুক্ত আলাদা আলাদা শহরে গিয়ে থাকছিল৷ অভিযুক্ত পালিয়ে গোয়া ও পুণেতেও গিয়েছিল৷

হেমন্ত চতুর্বেদী নামের এই ধৃত ব্যক্তি নিজের স্ত্রীয়ের রোজগার করা টাকা ওড়াত৷ স্বামী স্ত্রীয়ের মাঝেমধ্যেই এই কারণে ঝগড় হত৷ শিক্ষিকা পয়সা না দিলেই সে স্ত্রীয়ের বাড়ির লোকের কাছে টাকা দাবি করত৷ প্রায়দিনই টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধোর করত হেমন্ত৷ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হেমন্ত খুনের কথা স্বীকার করে৷ কিন্তু হেমন্ত ও কৌমুদীর ছেলের উপর এই ঘটনার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে৷ তার মা খুন হয়েছে এবং বাবাকে খুনের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এবার তার জীবন কিসের ভরসার কাটবে সেটাই ভাবার বিষয়৷

 

---- -----