‘নাইট’দের টানে তিলোত্তমায় বেনারসীবাবুরা

শুভপম সাহা স্পোর্টস রিপোর্টার kolkata24x7
শুভপম সাহা
স্পোর্টস রিপোর্টার
kolkata24x7

কলকাতা: ভারতের সুধীর গৌতম, পাকিস্তানের চৌধুরি আব্দুল জালিল ওরফে চাচা৷ প্রিয় দলের সমর্থনে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে গলা ফাটাতে পৌঁছে যান এহেন সুপার ফ্যানেরা৷একথা প্রায় সকল ক্রিড়াপ্রেমীরই জানা৷কিন্তু আইপিএল শেষ আট বছরে এমন কোনও চরিত্র খুঁজে পায়নি যে বা যারা সুধীর-চাচার মতোন করে থাকেন৷এরকম ভালোবাসার ব্যাপ্তি না-থাকলেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের টানে শুধুমাত্র ইডেন গার্ডেন্সেই পৌঁছে যান বারানসীর চার বাসিন্দা৷ রাজন, অঙ্কিত, রীতেশ ও কাল্লু৷এই চারমূর্তির গল্পই তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে৷

বেনারসের একটি কাপড় প্রস্তুতকারক সংস্থায় কর্মরত অঙ্কিতরা৷কেকেআর ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না৷ শেষ তিন বছর ধরেই বারানসী থেকে শখের ইন্ডিগো গাড়ি চেপে কলকাতায় চলে আসেন তাঁরা৷ আইপিএল এইটেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ হোটেলে থাকা এদের একেবারেই পছন্দের নয়৷ ময়দানে জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবের পাশেই অঙ্কিতরা গাড়ি রেখে, গোটা ধর্মতলা চত্বর ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবার৷

রাতে হোটেলে না-থেকে মাঠে থাকতে চায় কেন তাঁরা ? এই প্রশ্নের উত্তরে রাজন বলছেন,‘ ইডেনের কাছাকাছি থাকতে গেলে যে হোটেলে আমাদের উঠতে হবে, সেখানে থাকার মতো পয়সা খরচা করতে রাজি নই৷এর চেয়ে রাতে গাড়িতে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে নেওয়া অনেক ভালো৷ মাঝেমাঝে পুলিশ এসে সমস্যা করে৷ আমাদের চলে যেতে বলে৷ তাও আমরা ময়দানে থাকতেই পছন্দ করি৷ ইডেনের চারপাশটা আমাদের দারুণ লাগে৷ কলকাতার মতো এত সস্তায় খাবার আর কোথাও পাওয়া যায় না৷ তাই রাতে কিছু একটা খেয়ে গাড়িতেই ঘুমিয়ে নিই৷সত্যি বলতে গাড়ির জ্বালানি ছাড়া আর কোনও খরচা হয় না সেভাবে৷’

(বাঁ-দিক থেকে) অঙ্কিত-রাজন-রীতেশ-কাল্লু৷
(বাঁ-দিক থেকে) অঙ্কিত-রাজন-রীতেশ-কাল্লু৷
- Advertisement -

অঙ্কিত-রীতেশরা শনিবার কলকাতা-পাঞ্জাবের ম্যাচ দেখার জন্য বৃহস্পতিবার রাত একটাতেই রওণা দিয়েছিলেন বারানসী থেকে৷ মাঝে ধানবাদে খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে ফের কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন৷ প্রায় দু’ঘণ্টা লড়াই করে ম্যাচের টিকিট জোগাড় করেছেন তাঁরা৷ খেলা শেষে ফের গাড়ি ধরে ঘরে ফিরে যাবেন৷কেকেআর-এর প্রতিটা হোম ম্যাচে এমনটাই করে থাকেন অঙ্কিতরা৷

কলকাতায় বেনারসী পানের চাহিদা ঠিক যেরকম বারানসীতে কেকেআর-এর জনপ্রিয়তা ঠিক সেরকমই৷ এমনটাই বলছেন রাজন-অঙ্কিতরা৷


‘ইডেনের কাছাকাছি থাকতে গেলে যে হোটেলে আমাদের উঠতে হবে, সেখানে থাকার মতো পয়সা খরচা করতে রাজি নই৷এর চেয়ে রাতে গাড়িতে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে নেওয়া অনেক ভালো৷’


এই কলকাতার ফ্যান হলেও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, রাজস্থান রয়্যালস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকেও সমর্থন করেন৷ম্যাচের আগেই ময়দানের বিধান মার্কেটে গিয়ে প্রিয় দলের জার্সিও কিনে ফেলেছেন তাঁরা৷মাঠে বড় মাপের কেকেআর-এর পতাকা নিয়েই যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের৷অঙ্কিত বলছেন,‘ আমরা কলকাতাকে খুব ভালোবাসি৷ কিন্তু মুম্বই-রাজস্থান-পাঞ্জাবের খেলাও ভালো লাগে৷ তবে মাঠে আমরা সবাই মিলে কেকেআর-এর পতাকা নিয়েই গলা ফাটাব৷আমরা মাঠে আসলে মনে হয় যেন পুরো বেনারস আমাদের সঙ্গেই রয়েছে৷টিকিটের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতেও রাজি আছি আমরা৷আমাদের শহরে কেকেআর-এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে৷এতদিন ধরে আমরা আসছি৷কিন্তু আমাদের কেকেআর-এর প্রতি ভালোবাসার গল্প কোথাও লেখা হয়নি৷ কোনও মিডিয়াতেও তুলে ধরা হয়নি৷ আমাদের নিয়ে লেখার জন্য কলকাতা ২৪x৭-কে আমাদের সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ৷’

আইপিএল-এর অনান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিদের এরকম পাগল সমর্থন আছে বলে জানা নেই৷ কিন্তু গৌতম গম্ভীরের দলের জন্য গলা ফাটাতে ৬৮৭.১ কিমি রাস্তা অতিক্রম করে এতগুলো মানুষ আসেন৷ এটাই হয়তো কলকাতার পাওনা৷ করবো…লড়বো…জিতবো এই দলের থিমসং৷ খেলোয়াড়রা মাঠে তাঁদের সেরাটা দিয়েই লড়াই করেন৷ বারানসীর মতো আরও অনেক শহর রয়েছে যারা কেকেআরকে ভালো কিছু করার জন্যই সমর্থন করে যাচ্ছেন৷ শেষ আট বছর ধরে এই সমর্থনকে সম্বল করেই কেকেআর আইপিএল-এর আকাশে আজ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র৷ হয়তো এবারও গতবারের চ্যাম্পিয়ন টিমের হাতেই টুর্নামেন্টের ট্রফি উঠতে পারে৷ ট্রফি আসুক বা না আসুক৷ অঙ্কিতদের ভালোবাসাই কেকেআর-এর সবচেয়ে বড় ট্রফি৷ ‘সিটি অফ জয়’-এর সার্থকতা এখানেই৷

Advertisement ---
-----

Comments are closed.