চারমিনারের শহরের সূর্যাস্তের প্রহর গুনছে কলকাতা

কলকাতা: রয়্যালস অতীত, সামনে এখন লিগ শীর্ষে শেষ করা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ৷ নিজামের শহরের ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে শেষ গেঁড়োটা টপকালেই তৃতীয়বারের জন্য আইপিএল ফাইনালের হাতছানি নাইটদের৷

অ্যাডভান্টেজ বলতে ঘরের মাঠ, চেনা উইকেট! ইডেনে যে উইকেটে ২৪ ঘন্টা আগে রয়্যালসদের হুল ফুটিয়েছে রাসেল-কুলদীপরা৷ মেগা ম্যাচের আবহে লক্ষ্মীবারে অবশ্য একেবারে রেস্ট ডে৷ হোটেল বন্দি হয়ে রইলেন ক্রিকেটাররা৷ মাঠমুখো হলেন না দীনেশ-কুলদীপব্রিগেড৷ তবে কী সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে চাপ কাটাতেই ছুটির দিন ঘোষণা করলেন নাইট কোচ কালিস৷

মাভি-রাসেলদের বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক অবশ্য সেসব খারিজ করে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে নাইটদের চাপ থাকার তত্ত্ব ধুলো ঝারার মতো উড়িয়ে দিচ্ছেন৷ সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসন থেকে বোলার রাসিদ,সবার বিরুদ্ধেই সফল হওয়া যায়, হোটলে দাঁড়িয়ে সেকথাই শোনালেন স্ট্রিক৷ মাভিদের কোচের আত্মবিশ্বাস তখন যেন ঠিকরে বেড়াচ্ছে, তাই তিনি শুনিয়ে দিলেন, ‘খাতায় কলমে ক্রিকেট হয় না, মাঠে নেমেই হয়! তাই কোনও বাধাই টপকানো অসম্ভব নয়৷’

- Advertisement -

সাইরাজরার্সের বিরুদ্ধে লডা়ইয়ে তরুণদের উপর ভরসা রাখছেন স্ট্রিক৷ জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেন, ‘মাভি-প্রসিদ্ধরা চলতি আইপিএলে দারুণ ভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে৷ বিশেষ করে প্রশংসা করতে হবে প্রসিদ্ধের৷ আইপিএল ওর শুরুটা আর শেষ কয়েকটা ম্যাচ দেখলেই পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়ে যায়৷ উইকেটের জন্য ওর খিদেটাই ওকে নাইটদের সফল বোলার হিসেব পরিচয় তৈরি হয়ে দিচ্ছে৷ প্রসিদ্ধ-মাভির মতো উঠতিরাই ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ৷ স্টার্ক ছিটকে যাওয়ার পর নাইট বোলিং নিয়ে চিন্তা ছিল৷ স্টার্কের অভাব ঢেকে দিতে পেরেছে বাকিরা৷’ এখানেই শেষ না করে কৃষ্ণার মধ্যে ইতিমধ্যেই বুমরাহের ছায়া দেখছেন স্ট্রিক৷

শেষ দুই ম্যাচে নাইট বোলিং সত্যিই প্রশংসনীয়৷ কুলদীপ-নারিন স্পিন কাঁটা যেমন বিপক্ষকে সমস্যা ফেলছে ঠিক তেমনি পেস বিভাগে সমস্যা তৈরি করছে রাসেলরা৷ ডেথ বোলিংয়ে দীনেশকে ভরসা দিচ্ছেন কর্ণাটকি প্রসিদ্ধ৷ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের প্রতিপক্ষ সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ৩০ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়েছিলেন কৃষ্ণা৷ পাঁচ দিনের ব্যবধানে হোমক্রাউডের সামনে সেই পারফরম্যান্সেরই ফের একটা রিপিট দেখাতে চাইবেন কৃষ্ণা৷

নাইটদের বাধা বলতে তিন নাইট প্রাক্তনী আর উইলিয়ামসন আর রাসিদের বিধ্বংসী ফর্ম৷ চলতি আইপিএলে বর্ষবরণের আগের রাতে নাইটদের বিসর্জনের সুর শুনিয়েছিলেন শাকিব-পাঠানরা৷ সেই ম্যাচে ভুবি-স্যান্টলেকে জুটির সামনে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় দীনেশব্রিগেড৷ জবাবে ১৯ ওভারেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় সানরাইজার্স৷

ব্যাট হাতে অধিনায়ক উইলিয়ামসন ৫০ রান করেন৷ প্রাক্তন নাইট শাকিব দুই উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ২৭ রান করে দারুণ লড়াই দিয়েছিলেন৷ ইউসুফ পাঠান করেছিলেন ৭ বলে ১৭৷ বদলার ম্যাচ উপ্পলে অবশ্য সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করতে নেমে দু’বল বাকি থাকতে জয় তুলে নিয়েছে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি৷ শেষ চারের স্থান পাকা করার সেই ম্যাচে লিন-উথাপ্পা ব্যাটিং ধামাকায় ভুবি-রাসিদরা কোনও সুবিধা করে উঠতে পারিনি৷

Advertisement ---
-----