বঙ্গ ইতিহাস ভালো করে জানুন, দলকে অমিত

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ‘‘বাংলার ইতিহাস ভালো করে জানুন৷’’ রাজ্য বিজেপির নেতাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ ‘গো-বলয়ের’ বিজেপি-য় মনভাব যে বাংলার জনমানসে কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না, তা ভালোই বোঝেন দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব৷

তাই, আম বাঙালীর মনে পৌঁছতে গেলে শুধু মাত্র ‘জয় শ্রী রাম’ বললেই যে কাজ হবে না, তা বিজেপির অজানা নয়৷ রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিম-বিবেকানন্দের মতো ব্যক্তিত্বরাই যে বাঙালীর হৃদয়ে পৌছানোর একমাত্র রাস্তা তা গেরুয়া বাহিনীর কাছে আর গোপন নেই৷

কবির মৃত্যুদিনে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ শ্রদ্ধা জানাবেন, সে আর নতুন কিছু নয়৷ বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলায় বিপরীতমুখী রাজনৈতিক স্রোতকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন অমিত৷ জুলাই মাসে রাজ্যে এসে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মারক বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করে এই Counter Narrative এর জন্ম দিয়েছিলেন স্বয়ং অমিত শাহ-ই৷ রাজধানীতে বিজেপির নীতি প্রস্তুতকারদের ভালই বোঝেন, বাংলার সাংস্কৃতিক মননে পাকাপাকি জায়গা করতে বঙ্কিম এবং রবীন্দ্রনাথেই ভরসা করতে হবে বিজেপিকে৷

- Advertisement -

এক নেতার বক্তব্য, ‘‘শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবীদের একটি সমান্তরাল দল তৈরি করা প্রয়োজন, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অগণতান্ত্রিক ভোট লুঠেরা’-ইমেজের পরিপন্থী৷ তবে সঙ্ঘের আদর্শে তাঁদের উদ্বুদ্ধ হতে হবে, এরকম কোনও বাধ্যবাধকতা নেই৷ আপাতত, পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের বঙ্গ সম্পর্কে ভালো করে জানতে হবে৷ ইতিহাস পাঠ করতে হবে৷ রাজ্যের নাম বাংলা নয়, কেন বঙ্গ রাখার পক্ষে, তার কারণও বুঝতে হবে৷ শীর্ষ নেতৃত্ব তাই চায়৷’’

এদিন ট্যুইট করেছেন অমিত শাহ৷ কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছিলেন৷ মহান কবি, গীতিকার-কাহিনীকার তার অমোঘ লেখনিতে যা সৃষ্টি করেছেন, তা অমর৷ ১৯১৩ সালে এশিয়া থেকে প্রথম তিনি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছন৷ আজ তাঁর পূণ্যতিথিতে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম৷’’

কলকাতায় এসে সাহিত্য সম্রাটের ‘বন্দেমাতরম’ আলোচনা করেছিলেন অমিত৷ ওই আলোচনার মঞ্চেই তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহকে৷ এছাড়াও ছিলেন গবেষক অমিত্রাসূদন ভট্টাচার্য৷ ওইদিন বঙ্কিম বলেছিলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সভায় আসেননি৷ তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ভগবান বলে মনে করেন৷ বুদ্ধদেবের ওই উপলব্ধিতেই কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি৷ পার্টি চাইছে, তৃণমূল বিরোধীতাই বুদ্ধিজীবীদের বিজেপির মঞ্চে টেনে আনুক৷ এতদিন বাংলার বুদ্ধজীবীদের আড়াআড়ি ভাগ হতে দেখা গিয়েছে৷ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের পর্ব থেকেই একাংশ বামেদের পক্ষে ছিলেন, তো অন্য অংশ তৃণমূলের পক্ষে থেকে সরব হয়েছিলেন৷ তবে বিজেপির হয়ে প্রকাশ্য সমর্থন করতে দেখা যায়নি বাংলার কোনও বুদ্ধিজীবীকে৷ বাংলার বুদ্ধিজীবীদের পরিচিত মহলে এখনও তেমন ছাপ ফেলতে পারেনি বিজেপি৷<

এই কারণেই পরিচিত বৃত্তের বাইরে আসতে চাইছে বিজেপি৷ অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ, প্রাক্তন অধ্যাপকদের নিয়ে একটি দল করতে সমান্তরাল বুদ্ধিজীবীদের দল তৈরি করতে চাইছে বিজেপি রাজধানীতে পার্টির নীতি প্রস্তুতকারকদের মধ্যেই রয়েছেন অনেক প্রবাসী বাঙালী৷ পার্টি থেকে মূলত তাঁদের সাহায্যই নেওয়া হচ্ছে৷ সাংবাদিক স্বপন দাসগুপ্ত, অর্থনীতিবিদ বিবেক দেবরায় সহ কিছু ব্যক্তিত্ব বর্ধমানে বাংলার নবজাগরণ নিয়ে আলোচনায় মিলিত হবেন৷ প্রসঙ্গত জুলাই মাসে রাজধানীর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশন কলকাতার জিডি বিরলা সভাঘরে সাহিত্য সম্রাটের স্মারক আলোচনার আয়োজন করেছিল৷ ওই সংস্থাই বর্ধমানে নবজাগরণ নিয়ে আলোচনা চক্রের আয়োজন করবে৷

Advertisement ---
-----