রাস্তা বন্ধ করে মিটিং-মিছিল নয়, নির্দেশ আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অধিকারের দাবিতে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ মানুষের মৌলিক অধিকার৷ তবে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে রাজ্যের কোথাও মিটিং-মিছিল করা যাবে না৷

বৃহস্পতিবার জনস্বার্থ একটি মামলায় এই রায় দিয়ে প্রধান বিচারপতির জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, যদি মিটিং, মিছিল করতে গিয়ে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা হলে তার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে৷ এবং, এই মিছিল, মিটিং সংক্রান্ত যে সব ফৌজদারি মামলা হয়েছে, তা অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷

- Advertisement -

রাজ্যে যত্রতত্র রাস্তা অবরোধ করে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের বিষয়টি নিয়ে ২০১৫-র এপ্রিল মাসে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী ঋতুপর্ণা সরকার দত্ত। তাঁর আবেদন ছিল, রাজ্যজুড়ে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাতে জরুরিকলীন পরিষেবা ব্যাহত হয়৷ ওই সব স্থানে যাতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের জন্য রাজনীতিক দলগুলিকে প্রশাসন এবং সরকার অনুমতি না দেয়, তার আর্জি রাখা হয় মামলায়৷

২০১৬-য় কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ মামলার আবেদনকারীর আইনজীবী শ্রীকান্ত দত্তকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত যে সমস্ত রাজনীতিক দল রয়েছে, প্রত্যেককেই এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়৷ তৃণমূল কংগ্রেস এই মামলার নোটিস নিতে চায়নি৷ তবে সিপিএমের পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, তাঁদের দল রাস্তা অবরোধ করে মিছিল, মিটিং করে না৷ রাজ্যের পক্ষে অমিতেষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সম্পূর্ন রাস্তা বন্ধ করে কোনও মিছিল, মিটিং করা হয় না৷

মামলার দীর্ঘ শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী ধর্মতলার বেশ কিছু মিছিল, মিটিংয়ের ছবি তুলে দেন আদালতের কাছে। যেখানে দেখা গিয়েছে জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে৷ দীর্ঘ তিন বছর মামলা শুনানির পর বৃহস্পতিবার রায় দিলেন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ৷

Advertisement
----
-----