সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা : বাংলার রাজধানী এই তিলোত্তমা এখন মাদকপাচারকারীদের অন্যতম টার্গেট৷ এমনকি ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমেও শহরে ঢুকছে ভিন্ন দেশের মাদক৷ গত বেশ কয়েকটি ঘটনা রীতিমতো চোখ খুলে দিয়েছে পুলিশ কর্তাদের৷ একের পর মাদক উদ্ধারের ঘটনা এবং পাচারকারীদের জবানবন্দিতে স্পষ্ট, কলকাতা আর মাদকপাচারের করিডর নয়, সিটি অফ জয় এখন তাদের অন্যতম টার্গেট৷

কি ভাবে ওনলাইনের মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে শহরে ইমপোর্টেড মাদক ঢোকার প্রমান পাওয়া গেল৷

দিল্লি পুলিশ ডার্ক ওয়েবের উপর নির্ভর একটি মাদক পাচারকারী দলের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে৷ তাদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে তদন্তকারীদের হাতে৷ এই পান্ডাদের জেরা করে জানা গেল শুধু দিল্লিই নয়, বিদেশ থেকে ডার্ক ওয়েবের সাহায্যে দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও এই ইমপোর্টেড মাদক পাচার করা হয়৷ যার মধ্যে অন্যতম রাজ্যশহর কলকাতা৷

আরও পড়ুন: জিএসটি আদায় কমেছে ডিসেম্বরে

ইন্টারনেটের উপর নির্ভর এই পাচারকারিদের নেটওয়ার্ক অমেরিকা এবং জর্মানী পর্যন্ত বিস্তৃত৷ এইসব দেশ থেকেও মাদক আমদানি করে তারা৷ এরপর এই মাদকের বরাতের জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াকে৷ চ্যাটের মাধ্যমে এই ডিল ফাইনাল হয় বলেও তদন্তকারীদের জানায় ধৃতরা৷

বিদেশ থেকে আমদানী করা মাদকের দাম প্রায় ৫০ গুণ বেশি বলে জানতে পারেন পুলিশ কর্তারা৷ রাজধানী এবং তিলোত্তমা ছাড়াও এই ডিল করা হয়েছে মুম্বাই, চণ্ডিগড়,পুণে এবং গোয়া থেকেও৷ ধৃতদের কললিস্ট থেকে উঠে আসে প্রাথমিক তথ্য৷

আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়া ঝুলনদের স্বাগত জানালেন ডালমিয়া

তদন্তকারীরা ধৃতদের জেরা করে জানতে পারেন বিদেশী এই মাদক ইন্টারনেটে ১২পি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওর্ডার করা হয়৷ জানা যাচ্ছে এই আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের চিহ্ণিত করা খুব বড় চ্যালেঞ্জ গোয়েন্দাদের কাছে৷

তার কারণ তাদের পরিচয় বা লোকেশন লুকিয়ে রাখা হয়৷ এবং লেয়ার্ড এনক্রিপশন সিস্টেমের ফলে এদের ট্র্যাক করা যথেষ্ঠ কঠিন কাজ৷পুলিশ কর্তারা জানাচ্ছেন ডার্ক ওয়েবের ব্যবহারের উদ্দেশ্য হল নিজেদের পরিচয় গোপণ রাখা৷ এই পাচারকারিরা এমন টেকনোলজি ব্যবহার করে থাকে যাতে এদের সূত্র পাওয়া কোনও ভাবে সম্ভব না হয়৷

একটা সময় ছিল, যখন কলকাতাকে মাদকপাচারের সেফ করিডর হিসেবে ব্যবহার করত পাচারকারীরা৷ দিন পাল্টেছে, তিলোত্তমা এখন পাচারকারীদের অন্যতম ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে৷