সোমনাথের শোকসভায় বেগুনি ‘অ-শোভন’

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সোমবারের দুপুর৷ ঘড়ির কাঁটা তখন সবে ২টো পেরিয়েছে৷ বিধানসভায় শায়িত প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় মরদেহ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শাসক-বিরোধী বিধায়কদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষ হয়েছে সবেমাত্র৷ প্রস্তুতি চলছে জ্ঞান স্যালুটের৷

ঠিক তখনই নজরে এল বিষয়টি৷ বলা যায়, সেই মুহূর্তে শোকসভার সমস্ত আলো শুষে নিচ্ছেন অন্য একজন৷ গত কয়েকমাস ধরে তিনি যেভাবে রাজনীতির আঙিনার বাইরে প্রচারের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন৷ কার্যত একইভাবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের শোকসভাতেও তিনিই কেড়ে নিলেন সমস্ত স্পটলাইট৷

আরও পড়ুন: হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্টের কমিউনিস্ট ছেলে

- Advertisement -

তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য৷ এবং কলকাতার মেয়র৷ সেই তিনিই এদিন ফের প্রচারের আলোয়৷ এদিনও তাঁর জামা রং তাঁকে এনে দিল স্পটলাইটে৷ তাঁকে ঘিরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক৷

এদিন যখন বিধানসভায় সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে গান স্যালুট দেওয়া হয়, তখন দর্শকদের মধ্যে সামনের সারিতেই ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ পরনে নেভি ব্লু রংয়ের প্যান্ট ও বেগুনি রংয়ের শার্ট৷ শোকের আবহে যা দৃশ্যতই বেমানান ঠেকছিল সকলের কাছে৷

আরও পড়ুন: বিমান-সূর্যকে বেরিয়ে যেতে বললেন সোমনাথ পুত্র

কারণ, শোকসভায় সাধারণত সাদা পোশাক পরাটাই রীতি৷ তাও অন্য রংয়ের পোশাক পরলে, হালকা রংই পছন্দ করেন অনেকে৷ আর এই পরিস্থিতিতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের চড়া রংয়ের পোশাক দেখে অনেককেই ভ্রু কোঁচকাতে দেখা যায়৷

বিশেষ করে শুরুর দিকে মেয়রের দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিমাও অনেকের কাছে আপত্তিকর ঠেকে৷ কারণ, তিনি প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন৷ যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কাউকে কিছু বলতে শোনা যায়নি৷

আরও পড়ুন: এসএসকেএমে ‘গুরু’ জ্যোতি বসুর পাশেই প্রয়াত সোমনাথ

তবে সেই সময় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দিকে এগিয়ে আসেন এক মন্ত্রী৷ তাঁর দিকে তাকানোর পর প্যান্টের পকেট থেকে হাত বের করে নেন শোভনবাবু৷ দূর থেকে দেখে মনে হয়, ওই মন্ত্রী হয়তো তাঁকে কিছু বলেছেন৷

এদিন কেউ প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিষয়টি অনেকেই ফিসফাস করতে দেখা যায়৷ তবে শোভনবাবু কিন্তু ছিলেন ‘ডোন্ট কেয়ার’ মুডে৷ কিন্তু এ নিয়ে তাঁর কী বক্তব্য, তা অবশ্য জানা যায়নি৷

আরও পড়ুন: সংসদে প্রবেশ ও প্রস্থানে ‘নির্দল’ ছিলেন সোমনাথ

প্রসঙ্গত, আলিপুর আদালতে এখন মেয়রের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে৷ প্রতিটি শুনানিতেই মেয়র উপস্থিত থাকছেন আদালতে৷ সঙ্গী হচ্ছেন তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দেখা যাচ্ছে প্রতি শুনানিতেই শোভনবাবু ও বৈশাখীদেবী রং মিলিয়ে পোশাক পড়ছেন৷ আর এ নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে৷ কিন্তু এসবকে কোনওদিনই গুরুত্ব দেননি তাঁরা৷

এদিনও হয়তো অনেকটা সেভাবেই সবকিছুকে হেলায় উড়িয়ে দিয়ে গেলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ বোঝাতে চাইলেন, তিনি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন মন থেকে৷ পোশাকের কী রং৷ সেটা তাই কোনও ভাবেই আলোচনায় আসতে পারে না৷

আরও পড়ুন: সোমনাথ দা’কে হারিয়েই প্রথম সাংসদ হয়েছিলেন মমতা

Advertisement
---