প্রকৃতির দান, বাঘ বাঁচানোর লড়াইয়ে হাতিয়ার সচেতনতা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণের জন্য লড়াই৷ আর, এই লড়াইয়ে হাতিয়ার করা হয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে৷

সুন্দরবনের বাঘ দেশের সম্পদ৷ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই বিষয়ের উপরে জোরও দেওয়া হচ্ছে৷ পাঁচ বছর আগেই শুরু হয়েছে এই লড়াই৷ আর, এ দিকে, লালগড়ের জঙ্গলে ‘খুন’ হতে হল এক বাঘকে৷ যার জেরে, বাঘ প্রকৃতির দান, এই বিষয়টিও এখন রাখা হয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য৷

- Advertisement -

রেকর্ড অনুযায়ী প্রত্যেক বছর সুন্দরবনে বাঘের পেটে যায় ৫০-৬০ জন মানুষ। তবুও প্রকৃতির কোলে বাঘ বিপন্ন। টিকে থাকতে লড়াই করতে হয় ডোরাকাটাদের। বাঘ-মানুষের লড়াই বন্ধ করার চেষ্টা করছে ‘বন্ধু- এক আশা’ নামে স্বেচ্ছাসেবী এক সংগঠন৷

এই সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক পাভেল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাঘ সংরক্ষণ করা মূলত বন দফতরের কাজ। এই কাজে আমাদের সরাসরি কাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষের মন পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারি৷ মানুষের মধ্যে পরিবর্তন এনে যদি একটা বাঘের জীবন বাঁচানো যায়, তা হলে সেটা মানবজাতির পক্ষে ভালো।”

সুন্দরবনের গোসাবার সাতজেলিয়া গ্রামকে এই সংগঠন দত্তক নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাভেল বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, “ওই গ্রামে শিক্ষার আলো দেখাতে শুরু করেছি আমরা। এই শিক্ষার মধ্যে বাঘ সংরক্ষণ সব সময়েই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকেছে। আমরা ওখানকার শিশুদের শেখাই যে প্রকৃতির ভারসাম্য বাঁচাতে বাঘের বেঁচে থাকা কতটা জরুরি। হয়তো ওদের পরিবারের মানুষ বাঘের হাতে মারা গিয়েছেন৷ তবু বাঘকে অকারণে আক্রমণ করতে মানা করে থাকি আমরা। চেষ্টা করি এই শিক্ষা যাতে তারা একদম ছোটবেলা থেকেই পায়। তবেই না বাঘ বাঁচবে।”

এর পাশাপাশি সেখানকার স্কুলের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম সহ বই-খাতার ব্যবস্থাও এই সংগঠন করে বলে জানানো হয়েছে৷ এই সংগঠনের সম্পাদক সাগরিকা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গ্রামে মানুষের স্বাস্থ্য থেকে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়ে থাকি।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “কর্মসংস্থানের অভাবের জন্য সুন্দরবনের বহু মানুষ বনসম্পদের উপর নির্ভরশীল৷ অনেক্ষেত্রেই এই কাজ করতে গিয়েই তাঁরা বাঘের আক্রমণে মারা যান। তাই, অন্য কোনও কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টাও আমরা করি৷” বাঘ বাঁচানোর লক্ষ্যে কলকাতায় সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে এই সংগঠন৷ সেখানে ২০০ শিশুর হাতে রং-তুলি ধরিয়ে বাঘের ছবি আঁকার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা জারি রাখা হয়েছে৷

ছবি – মিতুল দাস

Advertisement ---
---
-----