শহিদ দিবসে মানবাধিকার লঙ্ঘন কলকাতা পুলিশের

স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: শহিদ দিবসে ধর্মতলায় চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করল কলকাতা পুলিশ৷ মোবাইল চোর সন্দেহে ধৃত এক কিশোরের কোলে পা তুলে তাকে মাটিতে বসিয়ে রাখার ছবি ভাইরাল হয়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়৷ হেয়ার স্ট্রিট থানার এক পুলিশ অফিসার গামবুট পরা পা অসহায় একটি মানুষের গায়ে তুলে দিয়ে মানবাধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে রীতিমত ছেলেখেলা করলেন৷

২১ শে জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসে প্রতিবছরের মত এবারেরও ধর্মতলা চত্বর ছিল লোকে লোকারণ্য৷ ভিড়ের চাপে ঠাসাঠাসি গোটা এলাকা৷ এই সুযোগে মোবাইল চোরেরাও মানুষের পকেট থেকে মানিব্যাগ ‘শহিদ’ করে দিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে৷ হাত সাফাই-এ মেতে ওঠে মোবাইল চোরের গ্যাং৷ আজও তার ব্যতিক্রম হল না৷ মোবাইল চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরাও পরলেন এক কিশোর৷ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করে পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায় পুলিশ৷ আর তার আগেই ঘটে গেল সেই মানবাধিকারের লঙ্ঘনের ঘটনা৷

মোবাইল চুরির দায়ে অভিযুক্ত সেই কিশোরকে মাটিতে বসিয়ে তার কোলে গামবুট পরা পা তুলে দিলেন এক পুলিশ অফিসার৷ অসহায় সেই কিশোর আর তার উপর গামবুট পরা পুলিশের পা৷ ছবি ভাইরাল সোস্যাল মিডিয়ায়৷ কলকাতার সমস্ত মানবাধিকার সংগঠন একযোগে এই ঘটনায় পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেছেন৷ মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর এর সদস্য রনজিৎ সুর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন৷ রনজিৎবাবু বলেন, এটা জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, পুলিশ কর্তাদের উচিত এই ঘটনার তদন্ত করে দোষী পুলিশ কর্মীকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া৷

- Advertisement -

এক অসহায় কিশোরের উপর গামবুট পরা পুলিশের পা, ছবি নাড়া দিয়েছে সাধারণ মানুষকেও৷ অভিযোগ মোবাইল চুরির, যদিও আদালতে অভিযোগ প্রমাণ হলে শাস্তি দেবে আদালত৷ তার আগেই জনসাধারণের সামনে তাকে চোর প্রমাণ করাটাই কি পুলিশের কাজ? আর মোবাইল চুরি করলেই কি এই ভাবে একজন মানুষের গায়ে সটান নিজের পা চাপিয়ে তাকে আটকে রাখতে পারে পুলিশ? প্রশ্ন উঠছে৷

মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে এটা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন৷ এখন পুলিশ কর্তারা এটাকে কি বলেন, আদৌ দোষী পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা তার দিকেই নজর থাকবে সাধারণ মানুষের৷

Advertisement ---
-----