অপহৃত কিশোরী: সংখ্যালঘু এলাকায় অভিযানে যেতে নারাজ লালবাজার

কলকাতা: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জোর করে আটকে রাখা হয়েছে কিশোরীকে। অভিযুক্তদের নাম, ধাম এবং মোবাইল নম্বর জানা সত্ত্বেও তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে না পুলিশ।

এমনই অভিযোগ উঠল কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী অপহৃত কিশোরীর বাবা কলকাতা পুরসভার কর্মী বিনোদ দাস।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের জুন মাসে। ওই বছরেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল অপহৃত কিশোরীর। জুন মাসের নয় তারিখে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায় মেয়েটি।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, বিনোদ দাসের পত্নী বিয়োগ হয়েছে। মা মারা যাওয়ার পর থেকে গার্ডেনরিচের মেহর মঞ্জিল এলাকায় মাসির বাড়িতেই থাকতো ওই কিশোরী। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় মেয়েটি। জুন মাসের দশ তারিখেই বিনোদ বাবু জানতে পারেন যে মেটিয়াবুরুজ এলাকায় রয়েছে তাঁর মেয়ে। স্থানীয় এক যুবক মিন্টু এবং তাঁর বাবা কোরবান আলি জোর করে আটকে রেখে দিয়েছে বিনোদ বাবুর মেয়েকে। গার্ডেনরিচ থানায় এমনই অভিযোগ করেছেন কলকাতা পুরসভার সাফাই কর্মী বিনোদ দাস।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় গার্ডেনরিচ থানায়। দীর্ঘ আট মাস পরেও লালবাজারের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন বিনোদ বাবু। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মামলা করেন কলকাতা হাইকোর্টে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের অভিযোগ শুনে উদ্বিগ্ন আদালত। বিনোদ বাবুর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন যে নির্দিষ্ট করে ঠিকানা ও ফোন নম্বর দেওয়ার পরেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। মেয়েটিকে সেখানে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে একথা বারবার পুলিশকে জানানোর পরেও দীর্ঘ আট মাসে কোনও প্রতিকার মেলেনি। ওই আইনজীবী আরও জানিয়েছেন মেটিয়াবুরুজ এলাকায় অভিযান চালানো যাবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের অভিযোগ শুনে উদ্বিগ্ন আদালত। সরকারি পক্ষের আইনজীবী বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও তাঁর যুক্তি ধোপে টেকেনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের সামনে। অভিযুক্তদের হেফাজত থেকে অপহৃত ওই কিশোরীকে অবিলম্বে উদ্ধার করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার(ক্রাইম)-এর নেতৃত্বে বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে বিনোদ বাবুর মেয়েকে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক।

Advertisement ---
-----