অন্তরকলহে অমিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের ক্যারেক্টর সার্টিফিকেট

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এক মাস অপেক্ষার পর কলকাতা 24×7-এর খবরের জেরে উচ্চ মাধঝ্যমিক পরীক্ষার্থী এক দল ছাত্রী পেল তাদের ক্যারেকটার সার্টিফিকেট। সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়ায় কোথাও ভরতি হতে পারছিলেন না ছাত্রীরা৷ শেষে তারা যোগাযোগ করে কলকাতা 24×7-এর সঙ্গে। সেখানে গিয়েই পরিষ্কার হয় পুরো ঘটনা। স্কুলের শিক্ষিকাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে সমস্যায় পড়েছিল ছাত্রীরা।

হাতিবাগান অঞ্চলের নারী শিক্ষা বিদ্যা মন্দিরের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রীরা দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলের থেকে ক্যারেক্টর সার্টিফিকেট দেয়নি ৷ জানা গিয়েছে, সমস্যার সূত্রপাত স্কুলের আভ্যন্তরীন গোলযোগ৷ পরীক্ষার ফল একমাস আগে বেরিয়ে গেলেও এতদিনেও ক্যারেক্টর সার্টিফিকেট পাননি পাস করে যাওয়া ছাত্রীরা৷

জানা গিয়েছে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে ওই স্কুলে শিক্ষিকা পদে নিয়োগ করে পাঠায় ডিআই অফিস৷ এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ট্রান্সফার হওয়া ওই শিক্ষিকাকে প্রধান শিক্ষিকা বলে ঘোষণা করে দেয়৷ এর পরে ভিতরে ভিতরে অন্তর্দ্বন্দ শুরু হয়৷ আগের প্রধান শিক্ষিকার পাশে দাঁড়ান বেশ কয়েকজন শিক্ষিকা৷ ডি আই অফিসে নতুন আসা শিক্ষাকার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান হয়৷ ডি আই অফিস তাঁকে রিলিজ করে পূর্বের স্কুলেই তাঁকে পাঠিয়ে দেয় ইতিমধ্যেই৷

- Advertisement -

এরপর উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোলে সমস্যা আরও বাড়ে৷ পাস করে যাওয়া ছাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়৷ কারণ তদানিন্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আগের স্কুলে ফিরে গেলেও নথি যে ঘরে থাকে সেই ঘরে তালা চাবি লাগিয়ে দিয়েই চলে যান বলে অভিযোগ৷ এসময় কেউই ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার ব্যপারে উদ্যোগি হয়নি বলে অভিযোগ৷ কারণ সমস্ত নথি ওই তালা বন্ধ ঘরের ভেতরে থাকায় ছাত্রীদের ক্যারেকটার সার্টিফিকেট দেওয়া যাচ্ছিলনা৷ এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের সভাপতি পদত্যাগ করেন এইসব সমস্যার মধ্যেই৷ এত সব ঘটে গেলেও স্কুলের তরফ থেকে ডিআই কে এই ঘটনা সম্পর্কে জানানোই হয়নি বলে অভিযোগ৷ ছাত্রীরা অথ্য জলে পড়ে যান৷

অনিন্দিতা সাহা নামের এক অভিভাবক বলেন, “আমরা বহু দিন ধরে ক্যারেক্টর সার্টিফিকেট দিতে বলছি। কিন্তু ওনারা দিতে চাইছেন না। বলছেন সমস্যা রয়েছে। কিন্তু কি সমস্যা সেটা বলছেন না। আমাদের মেয়েরা মুশকিলে পড়ে গিয়েছিল।”

গতকাল বিকেল পর্যন্ত চলে এই সমস্যা৷ এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সঞ্চিতা মালাকারের দাবি, তিনি ডিআই অফিস সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ডিআই অফিস থেকে গার্গী দাস রায়কে আমাদের স্কুলে পাঠায় একজন সাধারন শিক্ষিকা হিসাবে। কিন্তু ওনাকে দায়িত্ব দেয় আমাদের স্কুলের ম্যানেজমেন্ট।” এরপরেই আসল সমস্যার সূত্রপাত। স্কুলের শিক্ষিকাদের সঙ্গে বনিবনা হয়নি বাকি গার্গী দেবীর। তিনি ফোনে সেই কথাই জানান কলকাতা 24×7-কে। তিনি বলেন, “ওরা আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। এরপর ডিআই আমাকে ওই স্কুল থেকে সরিয়ে নেন।” এরপরেই তিনি আবার একটি কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। তিনি মূল নথি রাখার ঘরের চাবি নিয়ে চলে যান। এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই বচসা শুরু হয় শিক্ষিকাদের। স্কুলের প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করে চলে যান।

একদিকে স্কুল প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ। অপরদিকে ম্যানেজমেন্ট দ্বারা পদ পাওয়া প্রধান শিক্ষিকাও স্কুলে নেই। নিয়ে গিয়েছেন নথি রাখার ঘরের চাবি। আবার সঞ্চিতা দেবীও নিতে চাইলেন না দরজা খোলার দায়িত্ব। ঘটনা জানালেনও না ডি.আইকে।

বুধবার কলকাতা 24×7-কে ডি.আই বলেন, “ওনাদের নিজেদের সমস্যা ছিল সেটার জন্যই ছাত্রীরা ভুগেছে। তবে আমি ওদের মুখ চেয়েই দরজা খোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।”

বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা একমাস পর খুলে যায় দরজা। ডি.আই অফিসের প্রতিনিধি এসে বন্ধ ঘরের তালা খুলে দেয়। তারপরেই ছাত্রীদের হাতে ওঠে কলেজে ভরতি হওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্যারেক্টর সার্টিফিকেট।

Advertisement ---
---
-----