ফাইল ছবি৷

নিবেদিতা দে, কলকাতা: সামনেই লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে দলীয় কর্মীদের ৪২ এ ৪২ আসন দখলের লক্ষমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যেভাবে তৃণমূলের দল ভাঙিয়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক উঠেছে তাতে নেত্রীর সেই লক্ষমাত্রা মানা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে ধন্দে খোদ তৃণমূল নেতৃত্বই।

দল ছেড়েছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিট ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন তিনি। কারণ বারাকপুরের সংসদ দীনেশ ত্রিবেদী বহিরাগত। শুধু তাই নয়, এলাকায় তার বিশেষ প্রভাব নেই। আর এই কারণ দেখিয়ে টিকিট দাবি করেছিলেন অর্জুন। কিন্তু মমতা টিকিট দেননি তাঁকে। তাই অভিমান করেই তিনি বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন।

ব্যারাকপুর কেন্দ্রে অর্জুনের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। সূত্রের খবর তিনি ওই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির প্রার্থী হবেন। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রার্থী দীনেশের জেতা যথেষ্ট কঠিন হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই নিয়ে চাপে রয়েছে খোদ জেলা নেতৃত্ব। কারণ দলনেত্রীর চোখে ভালো সাজতে দীনেশকে জিতিয়ে আনতে হবে। তবে মুখে যাই বলুক অর্জুন প্রার্থী হলে দীনেশ এর জেতা যে ততোটাও সহজ হবে না তা বিলক্ষণ বুঝেছে তারা। আর সেই লক্ষেই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দলীয় ভবনে দফায় দফায় বৈঠক করছে জেলা নেতৃত্ব।

এদিন তৃণমূল ভবনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, দুই বিধায়ক, নির্মল ঘোষ, পার্থ ভৌমিক। ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদিও। সূত্রেই খবর, ব্যারাকপুর কে নিজেদের দখলে রাখতে যা যা করতে হয় করবে দল। কোনো কৌশলই বাকি রাখা হবে না তৃণমূলের তরফে।

এদিন অর্জুনের বিজেপিতে যোগের পাল্টা হিসেবে তৃণমূল ভাটপাড়া থেকে অনন্য দলের একগুচ্ছ নেতাকে জয়েন করলো।