স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রথম দফার বৈঠকে বচসা থেকে হাতাহাতিতে জড়ালেন আইনজীবীরা৷ ফলে কার্যত ভেস্তে গেল বৈঠক৷ বার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রের খবর, আপাতত আগামী ১১মে পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যহত থাকবে৷ তবে আইনজীবীদের মারপিটে জড়িয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উত্তম মজুমদার৷

উত্তমবাবু বলেন, ‘‘মোট আসনের অন্তত ৫০ শতাংশ আসনে বিচারপতি নিয়োগের দাবিতেই আমাদের আন্দোলন৷ আপাতত ১১মে পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে৷ ১৪ তারিখ পর্যন্ত আমরা চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি আদালতকে৷ তবে তার আগে যদি শূন্য পদে বিচারপতি নিয়োগ করা হয়, তাহলে সেদিনই আমাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেব৷’’য

শুন্য পদে বিচারপতি নিয়োগ সহ প্রধান চারদফা দাবিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কলকাতা হাইকোর্টে কর্মবিরতি শুরু করেছেন আইনজীবীরা৷

তাঁদের বক্তব্য, অন্তত ৫০ শতাংশ আসনে বিচারক নিযুক্ত করতে হবে৷ হাইকোর্টের সমস্যা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য সুপ্রিমকোর্টে কলকাতা হাইকোর্টের একজন রিপ্রেজেনটেটিভ রাখতে হবে৷ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতির মোট আসন রয়েছে ৭২ টি৷ এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি আসনে বিচারপতি রয়েছেন৷ তাঁদের মধ্যে আবার ২জনকে পাঠানো হয়েছে আন্দামানের সার্কিটবেঞ্চে৷ আগামী সপ্তাহে আরও চারজন বিচারপতি নিযুক্ত হলে বিচারকদের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৭, যা ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি৷

কর্মবিরতি অব্যহত থাকবে নাকি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে- এবিষয়েই এদিন বৈঠকে বসেছিলেন বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা৷ সূত্রের খবর, বৈঠকে আইনজীবীরা কার্যত দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যান৷ একপক্ষ দাবি তুলতে থাকেন, কর্মবিরতি প্রত্যাহারের৷ অন্য পক্ষ অবশ্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সপক্ষে মত দেয়৷ যার জেরে দু’পক্ষ বচসায় জড়িয়ে যায়৷ বচসা থেকে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে৷ রীতিমতো চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয় বৈঠকে৷ তারই জেরে বৃহস্পতিবার নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন৷

----
--