সিওল: তৃতীয় বারের জন্য বৈঠকে বসছেন উত্তর কোরিয়ার প্রধান কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন৷ চলতি মাসের ১৭-২০ তারিখ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে চলবে আন্তর্কোরিয় সম্মেলন৷ এই সম্মেলনের ফাঁকেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন তাঁরা৷

সংবাদ সংস্থা ইয়ুনহ্যাপ জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার তরফে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে৷ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত চাং ইউ ইয়ং বুধবার পিয়ংইয়ং থেকে ফিরে এখবর জানিয়েছেন৷ সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের কথা প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন৷

পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ বৈঠক উপলক্ষেই উত্তর কোরিয়া সফর করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট৷ প্রসঙ্গত, এর আগে একই উদ্দেশ্যে দুই বার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তাঁরা।

পড়ুন: জানেন পাক প্রেসিডেন্ট আরিফের সঙ্গে নেহরুর অন্যরকম সংযোগ ছিল

এই বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের উচ্চপদস্থ সচিবরা আগে বৈঠকে বসবেন বলে জানা গিয়েছে৷ ইতিমধ্যেই চাং ইউ ইয়ংয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল পিয়ংইয়ংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছে৷
এর আগে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল প্রথমবার দুই কোরিয়ার সীমান্ত গ্রাম পানমুনজমে বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা৷ সেই বৈঠকের পরই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ঘোষণা করেন কিম জন৷

এরপর গত জুনে সিঙ্গাপুরে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি অলিখিত চুক্তিতে পৌঁছন কিম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত মাসে উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সফর বাতিলের পর থেকে উত্তাপ বাড়তে থাকে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্টের সঙ্গে বৈঠকের পরেও বরফ যে খুব বেশি গলেনি, তার প্রমাণ মেলে৷ এরপর ফের বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার নেতা৷ ২০১৮ সালের ২৬ মে এই বৈঠক হয়৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে৷ তবে পালটা উত্তর দেন কিমও৷ দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক হলেও আরেকটি বৈঠকের প্রয়োজন ছিল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে৷ সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটিই হতে চলেছে সেপ্টেম্বরের ১৭-২০ তারিখের মধ্যে৷

----
--