জন্মাষ্টমীর উপহার, তিন বছর পরে খুলল নেপালের কৃষ্ণমন্দির

নয়াদিল্লি : ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপাল আজও জীবনের ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে রোজ৷ প্রতিদিন একটু একটু করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চায় নেপাল৷ বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে প্রাণ ফিরে পায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক সৌধ, মন্দিরগুলো৷

ভূমিকম্পের ফলে ঠিক তিন বছর আগে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কৃষ্ণ মন্দির সেজে উঠেছে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে৷ রবিবার নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে মহা সমারোহে পালিত হয় জন্মাষ্টমী৷ সেই উপলক্ষ্যেই তিন বছর পর সাধারণ মানুষের জন্য দরজা খুলল প্রাচীন কৃষ্ণ মন্দির, যা গত তিন বছর ধরে বন্ধ পড়ে ছিল৷ সারাইয়ের কাজ চলছিল এই মন্দির জুড়ে৷

নেপালের ললিতপুরের এই প্রাচীন মন্দির ২০১৫ সালে ভূমিকম্পে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়ে৷ তারপর থেকেই সারাইয়ের কাজ ধীরে ধীরে শুরু হয় এই মন্দিরে৷ তবে গত তিন বছরে এই মন্দির খোলা সম্ভব হয়নি সারাই কাজ চলার জন্য৷ এবছর ফের ভক্তরা মন্দির চত্বরে জন্মাষ্টমীর জন্য ভীড় করেছেন৷ সেই চেনা ছবি আবারও দেখা গেল কৃষ্ণ মন্দিরে৷

- Advertisement -

২০১৫-এর ২৫ শে এপ্রিল ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপাল৷ নেপালের লামজংয়ের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব কেন্দ্রস্থল থেকে আনুমানিক ২৯ কিমি জুড়ে এই কম্পন অনুভূত হয়৷ ১৯৩৪-এর নেপাল–বিহার ভূমিকম্পের পর এটি নেপালে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে মনে করা হয়৷ ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত নেপাল সহ ভারত, চিন ও বাংলাদেশে মৃত্যু হয় ৬৫০০ জনেরও বেশি মানুষের৷

কাঠমাণ্ডু উপত্যকা অঞ্চলে অবস্থিত ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত অধিকাংশ সৌধ ভেঙে পড়ে৷ জানকী মন্দিরের উত্তরভাগ, পাটন দরবার ক্ষেত্র, মনকামনা মন্দির ইত্যাদি স্থাপত্যগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাষ্ঠমণ্ডপ, পঞ্চতলে মন্দির, দশাবতার মন্দির, কৃষ্ণ মন্দির, শিব পার্বতী মন্দিরের মত স্থাপত্যগুলিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়৷ আংশিক ভেঙে পড়ে কুমারী মন্দির, তলেজু ভবানী, জয় বাগেশ্বরী মন্দির, পশুপতিনাথ মন্দির, স্বয়ম্ভূনাথ ও বৌধনাথ স্তূপ, রাণী পোখরির রত্ন মন্দির৷

Advertisement
---