লাহোর: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ মন্তব্য করেছিলেন, ২০০৮সালে মুম্বই হামলায় জড়িতরা পাকিস্তানের বাসিন্দা। এবার সেই মামলাতেই আগামী ৮ই অক্টোবর নওয়াজ শরিফকে হাজিরা দেওয়ার সমন জারি করল লাহোর হাইকোর্ট। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্যের ভিত্তিতে দাখিল হওয়া একটি পিটিশনের শুনানিতে এই মন্তব্য করল কোর্ট।

নওয়াজ শরিফ স্বীকার করেছিলেন, পাকিস্তানে জঙ্গিরা সক্রিয় এবং এবং তিনি প্রশ্ন তোলেন কিভাবে তারা সীমা লঙ্ঘন করে মুম্বইয়ে হামলা চালাতে পারে?

Advertisement

মুম্বই হামলায় কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছতে পারার জন্যও ভারত সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি সায়েদ মজহর আলি আকবর নকভি’র বেঞ্চ এই মামলায় ‘Dawn’পত্রিকার সাংবাদিক সাইরিল আলমেইদা’র বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এবং তার নাম Exit Control List-এ নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয়।

শুনানির সময় সাংবাদিক আলমেইদার অনুপস্থিতির কারনে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। এবং আগামী শুনানিতে অর্থাৎ আগামী ৮ই অক্টোবর তাকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিচারক, শরিফের ব্যক্তিগত আইনজীবী নাসির ভুট্টাকে প্রশ্ন করেন, কেন নওয়াজ শরিফ আদালতে হাজিরা দেননি? উত্তরে তার আইনজীবী জানান, গত ১১ই সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী বেগম কুলসুম নওয়াজ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুশোকেই তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।

এদিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি এদিন আদালতে হাজিরা দেন। এই মামলায় পিটিশন দাখিল করেন আমিনা মালিক। শরিফ পানামা পেপার মামলায় উপযুক্ত নথি দেখাতে না পারার কারণে ২০১৭ সালে তার ১০ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই ধরণের দেশদ্রোহী মন্তব্য যা পাকিস্তানের শত্রুদের অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করেন পিটিশনকারী।

অ্যাভেনফিল্ড সম্পত্তির দুর্নীতি মামলায় গত সপ্তাহে শরিফ, তার কন্যা মারইয়াম নওয়াজ এবং জামাতা মহম্মদ শফদারকে জামিনে মুক্ত করেছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট।

২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় ১০ জঙ্গির আক্রমণে প্রায় ১৬৬ জন মানুষ নিহত হন।দশ জঙ্গির মধ্যে ৯জন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল কাসভকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

----
--