লাখো মানুষের পায়ের ছাপ মিশে যাচ্ছে সাগরতটে

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: এই ভারতের মহামানবের সাগর তীরে…..৷ আক্ষরিক অর্থে তাই যেন ধরা পড়ছে৷ লাখো পূণ্যার্থীর সমাগমে পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গার মোহনায় জন সমুদ্র৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংক্রান্তির পবিত্র স্নান পর্বে অংশ নিতে প্রতি মুহূর্তে ভিড় উপচে পড়ছে৷ এই জনমিছিল একেবারেই গ্রামীণ ভারতের প্রতিনিধি৷

বাঙলার মাটিতে ক্ষুদ্র ভারত সংস্করণ দেখতে পৌঁছে গিয়েছেন দেশি বিদেশী সাংবাদিকরা৷ থেকে থেকে একটাই শব্দ- জয় গঙ্গা মাঈ..

ছবি- শশী ঘোষ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ৷ এখানে বিশাল বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দিয়েছে গঙ্গা৷ যে প্রবাহের উৎস বহুদূরে উত্তরাখণ্ডের গোমুখ থেকে৷ অর্ধেক ভারত পার করে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের ত্রি সঙ্গমে (প্রয়াগ) যমুনা ও সরস্বতী(অন্তঃসলিলা?)-র সঙ্গে মিশেছে গঙ্গা৷ সেই স্রোত কাশী-বারাণসীর তীর ধরে ঝাড়খণ্ডের রাজমহলের বাঁক পেরিয়ে ঢুকেছে পশ্চিমবঙ্গে৷ এরপরই ভাগ হয়েছে গঙ্গা৷ একটি স্রোত সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পদ্মা নামে প্রবাহিত৷ অন্যটি ভাগীরথী ও হুগলি নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিমজ্জিত৷

এ তো গেল ভৌগলিক অবস্থান৷ হাজার হাজার বছর ধরে যে পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে জড়িয়ে ভারতের জীবন তার প্রবাহ স্রোতই তো গঙ্গা৷ তাই তো বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু লিখেছিলেন- তুমি কোথা হইতে আসিয়াছ? কুলুকুলু ধ্বনিতে তার উত্তর পাওয়া যেত, মহাদেবের জটা হইতে। অপূর্ব এক লেখনি বন্ধনে বিজ্ঞানী জড়িয়ে নিয়েছেন গঙ্গাকে৷

আরও পড়ুন: সব তীর্থ একবার, গঙ্গাসাগর ৭ বার!

সেই গঙ্গার মোহনা তীরে পূণ্যস্নান৷ মকর সংক্রান্তি৷ পৌষ শেষ৷ মাঘের শুরু৷ বর্ষপঞ্জি অনুসারে এই মুহূর্ত পবিত্র৷ তাই স্নানযাত্রার মেলায় গঙ্গা অবগাহনে নিজেকে শুদ্ধ করে নিচ্ছেন সবাই৷

সংক্রান্তির গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে সাগরদ্বীপ৷ সতর্ক উপকূলরক্ষী বাহিনী৷ সতর্ক রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ৷ চরম ব্যস্ত দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলা প্রশাসন৷

এই জনগণ আদি অকৃত্রিম৷ এরাই আসল ভারত৷ এরাই তো পথিক৷  সাগরসঙ্গমের পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ ? এর উত্তরে লাখো লাখো মানুষের পায়ের ছাপ মিশে যাচ্ছে সাগরের বেলা ভূমিতে৷

আরও পড়ুন: মোক্ষ লাভের আশায় গঙ্গাসাগরে আজ স্নান

Advertisement
---
-----