জিডি বিড়লা কাণ্ডের তদন্ত এবার লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জিডি বিড়লা স্কুলে শিশু পড়ুয়াকে যৌন নির্যাতনের ঘটনার তদন্তভার হাতে নিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাবিভাগ৷ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তদন্তে যতটা অগ্রগতি হয়েছে, সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথি লালবাজারের গোয়েন্দারা শীঘ্রই যাদবপুর থানা থেকে সংগ্রহ করবেন বলে জানা গিয়েছে৷

এদিকে এই ঘটনায় রবিবার দিনভর বিক্ষোভ চলেছে দক্ষিণ কলকাতার ওই স্কুলচত্বরে৷ অভিভাবকরা গঠন করেছেন ফোরাম৷ এই পরিস্থিতিতে স্কুল কেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল জিডি বিড়লা কর্তৃপক্ষ, সেই প্রশ্ন তুলেও সরব হয়েছেন তাঁরা৷ আর এর মধ্যেও ওই স্কুলের অধ্যক্ষা শর্মিলা নাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা শিশুর বাবা৷ তিনি ওই অধ্যক্ষার গ্রেফতারির দাবি করেছেন৷

আরও পড়ুন: জি ডি বিড়লা কান্ডে অবস্থান বিক্ষোভে অভিভাবকরা, বন্ধ স্কুল

- Advertisement -

যাদবপুর থানায় দায়ের করা ওই অভিযোগে ওই শিশুর বাবা দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, সেই সম্পর্কে স্কুলের অধ্যক্ষ সবই জানতেন৷ তাই তাঁকেও এই ঘটনায় গ্রেফতার করা উচিত৷ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইপিসির একাধিক ধারায় জিডি বিড়লার অধ্যক্ষার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে৷ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্য গোপনের ধারা যোগ করা হয়েছে৷ একই সঙ্গে পকসো আইনেও মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷

প্রসঙ্গত, জিডি বিড়লার এই ঘটনাকে ঘিরে গত শুক্রবার থেকেই উত্তপ্ত দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ৷ যাদবপুর থানা এলাকার ওই স্কুলে সেদিন থেকেই বিক্ষোভ চলছে অভিভাবকদের৷ ওইদিন গভীর রাত পর্যন্ত আটকে ছিলেন স্কুলের অধ্যক্ষা-সহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা৷ শেষে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের স্কুল ছাড়তে হয়৷ তার পর থেকে বন্ধ স্কুল৷ বিক্ষোভ চলাকালীন আচমকা স্কুলে সিসিটিভি বসানো হয়েছে৷ অভিভাবকরা সোমবার থেকে বিক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়াবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন৷ তারই মধ্যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ করা হল৷ ফলে রবিবার বিক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে৷

আরও পড়ুন: জি ডি বিড়লা কান্ডে অবস্থান বিক্ষোভে অভিভাবকরা, বন্ধ স্কুল

এদিকে ওই শিশুর উপর নির্যাতনে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পুলিশি হেফাজতে রয়েছে৷ শনিবার আদালতে পেশ করার আগেই কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এক দফা জেরা করেছে তাদের৷ এবার ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়ে এই ঘটনায় ধৃতদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ তথ্য উদ্ধার করতে চাইছেন গোয়েন্দারা৷ কারণ, তদন্ত গতি হারালে ক্ষোভের মাত্রা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ তাই তড়িঘড়ি ঘটনার তদন্তভার লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ নিল বলে কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর৷

Advertisement ---
-----