লম্বা ছুটিতে সৈকতে নামল পর্যটকদের ঢল

ফাইল ছবি। ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগ নেই।

তমলুক: শেষ হয়ে গিয়েছে ছোটদের পরীক্ষা। মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও শেষ। এই সময়েই পকেটে এসেছে একটানা লম্বা ছুটি। সেই ছুটি উপভোগ করতে ভিড় জমেছে দক্ষিণবঙ্গের সৈকতগুলোতে।

শনি-রবি তো ছিলই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোমবারের বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং মঙ্গলবারের মে দিবস। রাজ্য সরকারি কর্মীদের আবার বুধবারেও ছুটি। এমনই ঘোষণা করা হয়েছে নবান্ন থেকে।

- Advertisement -

একটানা চার-পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করতে দক্ষিণবঙ্গের সৈকতগুলোতে ঢল নেমেছে পর্যটকের। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা। এর পরেই রয়েছে ওই জেলারই মন্দারমনি, শঙ্করপুর। তাজপুর বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির চিত্রটাও একইরকম।

গত পাঁচ বছরে দিঘা সহ অন্যান্য সৈকত শহরগুলোর উন্নতি হয়েছে চোখে লাগার মতো। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল সমুদ্রের পারগুলি। এছাড়াও মনোরঞ্জনের জন্য একগুচ্ছ ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেই সংগে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন- দিঘা, মন্দারমনিতে হোটেলে রাত কাটাবেন? জেনে নিন সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

দিঘা থানার ওসি বাসুকিনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘সপ্তাহান্তে টানা ছুটি পড়ায় পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন। সেই কারণে দিঘার সর্বত্র বাড়ানো হয়েছে নজরদাড়ি। বাড়ানো হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার ও নুলিয়াদের সংখ্যা।’’

দিঘা সহ মন্দারমনি এবং তাজপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে মাস খানেক আগেই এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। আগে থেকে হোটেলের জন্যে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। না হলে কোনও হোটেলেই থাকার জন্যে ঘর পাবেন না। গত ১ মার্চ থেকে এই তিনটি সমুদ্র সৈকত শহরে অনলাইন গেস্ট রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু হয়েছে।

এবার থেকে হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়মই মানতে হবে উক্ত তিন এলাকার হোটেলগুলিকে। এমনটাই সরকারি নির্দেশিকা। আর এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি হোটেলে যে সমস্ত পর্যটক আসবেন তাঁদের প্রত্যেকের পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে।

প্রশাসনের কড়া নির্দেশিকা থাকলেও ভিড় কমেনি উক্ত তিন সৈকতে। ভোট ঘোষণার পর থেকে একটু ভাটা পড়লেও এখন তা উসুল হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী। শুধুমাত্র সপ্তাহান্তে ভিড় থাকা তাজপুরে। কিন্তু আগামী তিন দিন কোনও হোটেল ফাঁকা নেই বলে জানালেন তাজপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শান্তনু সাহা।

এই মুহূর্তে দিঘার যা অবস্থা তা দুর্গাপুজোর কলকাতাকেও হার মানিয়ে দেবে বলে মনে করছেন অনেকে।

Advertisement
---