মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতির টিপস

মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা৷ তাই পরীক্ষার্থীদের এখন শিরে সংক্রান্তি৷ তাই পরীক্ষার আগে তাদের জন্য রইল কিছু টিপস৷ এই টিপসগুলো পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা আরও ভালো করতে সাহায্য করবে৷

পড়াশোনা: পরের দিন যে বিষয়ের পরীক্ষা আছে তার পড়া ভালো করে ঝালিয়ে নিতে হবে৷ পারলে একবার পুরো বইটা চোখ বুলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কর৷ কারণ এখন একটা ভালো নম্বরের ছোট প্রশ্ন থাকে৷ তাই এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হবে ছাত্রছাত্রীদের৷ এছাড়া বড়ো প্রশ্নগুলো আলাদা করে দেখে নিও৷

মানসিক প্রস্তুতি: সকলেই স্কুল জীবনে অনেক পরীক্ষা দিয়েছে৷ কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পড়ুয়াদের কাছে৷ তাই সকলের একটা চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক৷ কিন্তু তা বলে অহেতুক চিন্তা করাটা উচিত না৷ কারণ এতে যা যা পড়েছো তা ভুলে যেতে পারো৷ তাই বেশি চিন্তা না করে শুধু ভাবো তুমি সব পারবে৷

শারীরিক প্রস্তুতি: এখন পরীক্ষা একদম দোরগোড়ায় তাই কোনও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার আর না খেলে ভালো হয়৷ সহজ পাচ্য খাবার খাওয়াই শ্রেয়৷ আবার অনেক চিন্তায় খাওয়া বন্ধ করে দেয়৷ সেটাও কিন্তু খারাপ৷ তাছাড়া পরীক্ষার আগের দিন বেশি রাত করে ঘুমোতে না যাওয়াই ভালো৷

খাতায় মার্জিন দেওয়া: পরীক্ষার খাতায় প্রতি পাতায় অবশ্যই চওড়া করে মার্জিন দেবে৷ এতে পরীক্ষকের নম্বর দিতে সুবিধা হয়৷

বিভাগ শেষে দাগ দেওয়া: প্রতিটি বিভাগের উত্তর লেখা শেষ হলে শেষে একটা লম্বা দাগ টেনে দেওয়া উটিত৷ এতে শিক্ষকের বুঝতে ও নম্বর দিতে সুবিধা হবে৷ কোন একটি বিভাগের মধ্যে অন্য বিভাগের প্রশ্ন লিখবে না৷

বানান ভুল এড়িয়ে চলা: বানান ভুল যথাসম্ভব এড়িয়ে চলবে৷ দরকার পরলে ভেবে চিন্তা বানানটা লেখো৷

সঠিক প্রশ্নের নম্বর দেওয়া: প্রশ্নপত্রে ঠিক যেভাবে ক্রম (question number) দেওয়া আছে ঠিক সেভাবেই খাতায় লিখবে৷

শব্দ সংখ্যা মেনে চলা: প্রশ্নপত্রে প্রতিটা প্রশ্নের নির্দিষ্ট শব্দ সংখ্যা উল্লেখিত থাকে৷ সেই অনুযায়ী যথাযথ শব্দ ও সময় ব্যাবহার করবে৷ অযথা ও অপ্রয়োজনীয় কিছু লিখবে না৷ যেমন বাংলায় প্রবন্ধের ক্ষেত্রে কম করে চারশো শব্দ থাকতেই হবে৷ তাই এর জন্য নূন্যতম তিরিশ মিনিট বরাদ্দ করবে৷

সঠিক টেনস নির্বাচন করা: ইংরাজির ক্ষেত্রে প্রশ্ন যে টেনসে করা হয়েছে, তার উত্তরও সেই টেনসেই দিতে হবে৷ একটি বাক্যে যেন একাধিক বার ব্যবহার না করা হয় সেই দিকে লক্ষ রাখা উচিত। ‘True – False’ প্রশ্নের ক্ষেত্রে ‘T’ বা ‘F’ যেন পরিষ্কারভাবে লেখা হয়৷ একটু অপরিষ্কার হলেই পরীক্ষক নম্বর নাও দিতে পারেন।

হাতের লেখা ঠিক রাখা: মুক্তোর মতো হাতের লেখা না হলেও চলবে৷ তবে তোমার লেখা যেন পরীক্ষক পড়তে পারেন।

সময়ের সঠিক ব্যবহার: তিন ঘণ্টা সময় উত্তর লেখার জন্য যথেষ্ট৷ এটা সব সময় মনে রাখবে। অযথা হুড়োহুড়ি করে প্রশ্নের উত্তর দেবে না৷ এতে বানান ও উত্তর ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়৷

প্রথম পনেরো মিনিটের উপকারিতা: প্রথমে প্রশ্ন পড়ার জন্য যে অতিরিক্ত সময় পাবে তাতে ভালো করে খুঁটিয়ে প্রশ্ন পড়বে। প্রতিটা বিভাগে যে প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পারবে সেগুলিকে নির্বাচন করবে এবং সেগুলিই আগে লিখবে।

শেষ মুহূর্তের ঝলক: পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা অবধি অপেক্ষা করবে। যতবার পারবে পুরো উত্তরপত্র খুঁটিয়ে পড়বে। খাতা জমা দেওয়ার আগে কমপক্ষে একবার খাতা ভালো করে দেখে নেবে।

আর একটা কথা কোন পরীক্ষা খারাপ হলে সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা না করাই ভালো৷ এতে পরের পরীক্ষার উপর প্রভাব পড়তে পারে৷

---- -----