জাতীয় নির্বাচকদের শুভবুদ্ধির উদয় চান লক্ষ্মী

লক্ষ্মীরতন শুক্লা৷

দেশের সেরা অলরাউন্ডার নির্বাচিত হয়েছেন ৷ বোর্ড কর্তাদের হাত থেকে পুরস্কারও মিলেছে ৷ কিন্তু, জাতীয় নির্বাচকদের ‘গুড বুকে’ নাম তুলতে পারেননি লক্ষ্মীরতন শুক্লা ৷ স্টুয়ার্ট বিনি, রজত ভাটিয়াদের ভারতীয় দলে সুযোগ মেলে ৷ কিন্তু, ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পরেও লক্ষ্মীর সামনে জাতীয় দলের দরজা খোলে না ৷ ১৯৯৯-এ মাত্র তিনটি ওয়ান ডে-র জন্য টিম ইন্ডিয়ার জার্সি গায়ে উঠেছিল ৷ কিন্তু, তার পর থেকে বঞ্চনার তালিকায় সবার উপরে বাংলার এই অলরাউন্ডার ৷ জাতীয় নির্বাচকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার না-করলেও তাঁদের শুভবুদ্ধির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন ৷ জাতীয় দলের দরজা না-খুললেও বাংলার জার্সিতে মাঠে নামার মোটিভেশনের ঘাটতি হয় না লক্ষ্মীর ৷ বিজয় হাজারে ট্রফি (রঞ্জি ট্রফির ওয়ান ডে টুর্নামেন্ট) খেলতে রাঁচি উড়ে যাওয়ার আগে সুশান্ত মণ্ডল-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বাংলা অধিনায়ক ৷

চমৎকার সিজন ৷ রনজিতে বাংলার পাশাপাশি ঈর্ষণীয় ব্যক্তিগত সাফল্য ৷ বিজয় হাজারে ট্রফিতে লক্ষ্য কী ?

লক্ষ্মী: রঞ্জিতে আমাদের ভাল সিজন গিয়েছে ৷ আমাদের হাতে ভাল খেলোয়াড় ছিল না ৷ কিন্তু, যারা সুযোগ পেয়েছে তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে ৷ এই দল নিয়েই আমরা সেমিফাইনাল খেলেছি ৷ কিন্তু, বিজয় হাজারে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট ৷ অন্য ফর্ম্যাট ৷ সুতরাং আমাদের কাছে নতুন চ্যলেঞ্জ ৷

- Advertisement -

বিজয় হাজারেতে আপনাদের রেকর্ড দুর্দান্ত ৷ গতবারের সেমিফাইনালিস্ট এবং তার আগের বারের চ্যাম্পিয়ন ৷ বাড়তি চাপ থাকবে না ?

লক্ষ্মী: প্রত্যাশার চাপ সব সময় থাকেই ৷ আমরা ভাল দল ৷ মনোজ (তিওয়রি ) ফিরেছে ৷ ঋদ্ধিমানকে (সাহা) পুরো টুর্নামেন্টেই পাব ৷ তবে, আগে কী হয়েছে সে কথা ভেবে লাভ নেই ৷ আমাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে ৷

কিন্তু সাদা বলে আপনারা তো পর্যাপ্ত প্র্যাকটিসই পেলেন না ৷ অসুবিধা হবে না ?

লক্ষ্মী: এটা ঠিক, পুরো দল আর ক’টা দিন এক সঙ্গে প্র্যাকটিস করতে পারলে ভাল হতো ৷ তবে আমরা পেশাদার ক্রিকেটার ৷ অন্য ফর্ম্যাটের সঙ্গে আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে ৷ যখন কোনও দল আন্তর্জাতিক সফরে যায়, তখন তারাও মাত্র দু’ দিনের ব্যবধানে টেস্ট ও ওয়ানডে খেলে ৷ তাদেরও লাল ও সাদা বলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় ৷ তা ছাড়া যারা প্র্যাকটিস করেনি, তারা সবাই ক্লাবের হয়ে ম্যাচ খেলছে ৷ আমি মনে করি, ম্যাচ খেললে সব সময় বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায় ৷ আশা করি, আমাদের মানিয়ে করতে সমস্যা হবে না ৷

বিজয় হাজারেতে আপনাদের প্রাথমিক লক্ষ্য কী ?

লক্ষ্মী: ওয়ানডে ফর্ম্যাটে আমরা ভাল দল ৷ কিন্তু, অতীত ভুলে আমরা মাঠে নামব ৷ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে ৷ আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য গ্রুপে ভাল খেলে নক-আউটে কোয়ালিফাই করা ৷

Laxmi_Ratan_Shukla
একশো রঞ্জি ম্যাচ খেলার জন্য চলতি বছরে সিএবি-র তরফে শুভেচ্ছা ব্যাট দিচ্ছেন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে ৷ -ফাইল চিত্র

নক-আউট এবার ঘরের মাঠে হবে ৷ কিছুটা হলেও অ্যাডভান্টেজ পাবেন ?

লক্ষ্মী: এখনই আমরা নক-আউট নিয়ে ভাবছি না ৷ লিগটাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ৷ ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে যে কোনও দল যে কোনও দিন জিততে পারে ৷ সুতরাং আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই৷

নিজের ফর্ম নিয়ে কী বলবেন ?

লক্ষ্মী: সিজনে এখনও নিজের পারফরম্যান্সে আমি খুশি ৷ কিন্তু, হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না ৷ আরও কী করে ভাল করা যায় সেই লক্ষ্যে মাঠে নামব ৷

দেশের সেরা অল-রাউন্ডার হয়েও জাতীয় দলে সুযোগ পান না ৷ মোটিভেশনের অভাব হয় না ?

লক্ষ্মী: শুধু আমার সঙ্গে কেন, বাংলার বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের সঙ্গেই এটা হচ্ছে ৷ মোটিভেশন কমে না, বরং বাংলার হয়ে খেলতেই বাড়তি মোটিভেশন পাই ৷ অন্যরা কী পায় জানি না৷ আমি তো পাই ৷ আমার স্বপ্ন বাংলাকে রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন করা ৷ এটা না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্তি পাব না ৷ আশা করি, শীঘ্রই এটা হবে ৷

জাতীয় দলে আপনার সুযোগ না পাওয়ার পিছনে পূর্বাঞ্চলের নির্বাচক সাবা করিম যে যুক্তি দিয়েছেন, তা নিয়ে কী বলবেন ?

লক্ষ্মী: এতে আমার কিছু বলার নেই ৷ শুধু বলব অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু কিছু কাজ হচ্ছে না ৷ আমার মনে হয় এবার কাজটা শুরু হওয়া দরকার ৷ বেঙ্গলের ক্রিকেটাররা পারফর্ম করে যাচ্ছে ৷ সুযোগ দেওয়াটা নির্বাচকদের কাজ ৷

২০১১-১২ মরসুমে আপনি দেশের সেরা অলরাউন্ডারের পুরস্কার পেয়েছেন ৷ তার পরও নির্বাচক বলছেন জাতীয় স্তরে আপনার পারফরম্যান্স নেই ৷ কী বলবেন ?

লক্ষ্মী: নির্বাচক যে যুক্তি দিয়েছেন তা অর্থহীন ৷ নিজের অক্ষমতা ঢাকতে এ সব বলা হচ্ছে ৷ পূর্বাঞ্চলের নির্বাচককে জিজ্ঞেস করুন, জাতীয় পারফরম্যান্স না করে আমি কী করে দেশের সেরা অল-রাউন্ডারের পুরস্কার পেলাম ৷ সব মানুষই ভুল থেকে শিক্ষা নেয় ৷ আশা করব খুব দ্রুত নির্বাচকের শুভবুদ্ধির উদয় হবে ৷

কেকেআর এবার আপনাকে রাখল না ৷ হতাশ লাগে না ?

লক্ষ্মী: আমি মোটেই হতাশ নই ৷ এটা পেশাদার লিগ ৷ যে ফ্র্যাঞ্চাইজি আমাদের উপর আস্থা রেখেছে তাদের প্রতিদান দিতে চাই ৷ দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে আমি, মনোজ ও শামি খেলব ৷ পারফর্ম করে আমরা বাংলার সম্মান বাড়াতে চাই ৷ আশা করব, বাংলার মানুষ আমাদের পাশে থাকবে ৷

Advertisement ---
---
-----