অ্যারেস্টার হুক দিয়ে সফল পরীক্ষা তেজসের

নয়াদিল্লি : সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়াকক্রাফট বা এলসিএ এখন নৌবাহিনীর ব্যবহারের জন্য তৈরি৷ গোয়াতে বৃহস্পতিবার এই তেজসের সফল পরীক্ষা হল৷ এবার অবশ্য অ্যারেস্টার হুক দিয়ে৷

অ্যারেস্টার হুক বা টেলহুক হলো এমন একটি যন্ত্র যেটি বিমানের একদম পিছনের অংশ বা ইমপেনাজ অংশে যুক্ত থাকে৷ এর মূল কাজ তুলনামূলক কোনও ছোট ডেকের ওপর যখন বিমান অবতরণ করে, তখন এই টেল হুলক বা অ্যারেস্টার হুক দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে বিমানকে থামানো যায়৷

ক্যারিয়ার রানওয়ে থেকে ছিটকে যাতে না পড়ে, তার জন্যই এই হুকের ব্যবহার করা হয়৷ বিমান যখন অবতরণ করে, তার আগে থেকেই ক্যারিয়ারের ফ্লাইট ডেক অথবা রানওয়েতে কিছু দড়ি লম্বালম্বি ভাবে সাজানো থাকে, বিমান অবতরন করার সময় টেলহুক নামিয়ে দিলে রানওয়েতে আগে থেকেই লম্বালম্বি ভাবে সাজানো থাকা বহু সংখ্যক দড়ির মধ্যে একটি, এয়ারক্রাফটের টেলহুকের খাজে আটকা পড়ে যায় এবং এয়ারক্রাফটকে ধীরে পিছনের দিকে টেনে ধরে এবং গতি কমিয়ে দেয়।

- Advertisement -

এই অ্যারেস্টার হুক দিয়ে তেজসের পরীক্ষা এদিন সফল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ নৌসেনার পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত দুটি ভিডিও প্রকাশ করে ট্যুইট করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে নৌসেনা জানায়, তেজস ব্যবহারযোগ্য নয়৷ কারণ এটি মাটি থেকে আকাশে দ্রুত ওঠার পক্ষে যথেষ্ট ভারি৷ নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লান্বা এই অভিযোগ করেছিলেন তখন৷ এও বলা হয়েছিল যে নৌসেনা এর বিকল্প খুঁজছে৷

নৌসেনার কাছে মিগ ২৯কে রয়েছে, যা বিক্রমাদিত্য ও আইএসি বিক্রান্তের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়৷

তাই এরপর থেকেই তেজস নিয়ে গবেষণা চালায় প্রতিরক্ষা গবেষণা বিভাগ৷ ঢেলে সাজানো হয় এই এয়ারক্রাফটকে৷ অনেক কম সময়ে পিক আপ ও হালকা প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন তেজসকে তৈরি করা হয়েছে৷ তবে এই নতুন তেজস নৌবাহিনীর মুকুটে নতুন পালক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে কিনা, তা সময়ই বলবে৷

Advertisement
---