পাক সরকারের ‘চক্ষুশূল’ আসমা জাহাঙ্গীর প্রয়াত

গোঁড়া ইসলামি আইনকে সিগারেটের ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিতেন৷ ছিলেন জোর করে ধর্মান্তরকরণের প্রবল বিরোধী৷ সেনা নিয়ন্ত্রিত পাকিস্তান সরকারও তাঁকে সমঝে চলত৷ প্রয়াত এমনই বিদ্রোহিনী পাক মহিলা আসমা জাহাঙ্গীর৷

লাহোর: প্রয়াত বিশিষ্ট পাক মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীর৷ লাহোরে প্রয়াণ হয়েছে এই আন্তর্জাতিক মহিলা ব্যক্তিত্বের৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর৷ আসমা জাহাঙ্গীরের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই পাক বুদ্ধিজীবী মহলে নেমেছে শোকের ছায়া৷ সীমান্তের ওপারে ভারতেও সেই শোক ছড়িয়েছে৷

পাকিস্তানে জোর করে ইসলামিকরণের (ধর্মান্তরকরণ) তীব্র সমালোচক ছিলেন আসমা৷ মানবাধিকার প্রশ্নে বারে বারে পাক সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন৷ ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী৷ রক্ষণশীল পাক মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধেও আসমা জাহাঙ্গীরের বিপ্লবাত্মক ভূমিকা প্রশংশনীয়৷ ছিলেন সরকারের চক্ষুশূল৷

- Advertisement -

ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানে মহিলাদের অগ্রগতি তেমন নয়৷ এর মধ্যেও যে গুটিকয় মহিলা নজর কেড়েছিলেন তাদের একজন আগেই খুন হয়েছেন৷ তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো৷ অপর জন হলেন নোবেল জয়ী মালালা ইউসুফজাই৷ রাজনীতিক হিসেবে শেরি রহমানের নামও উঠে আসে৷ প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের নামও এসেছে৷ এরা কেউই তেমন ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত বিষয়ে সরব হননি৷ এখানেই পরিচিতি ছিল আসমা জাহাঙ্গীরের৷

বার বার সরকারের ‘চক্ষুশূল’ আসমা

পাকিস্তান বারে বারে ধর্মীয় আইন রক্ষায় সংখ্যালঘুদের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে শিরোনামে আসে৷ এমনই দেশে ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননা) সংক্রান্ত আইনের তীব্র সমালোচনা করতেন আসমা জাহাঙ্গীর৷ একইসঙ্গে দেশে সেনা শাসনের তীব্র বিরোধিতা করতেন৷ প্রকাশ্যেই তাঁর বিরোধিতা সরকারের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷  বিশেষ করে জিয়া উল হকের সময় কড়া সেনা শাসন ও ধর্মীয় আইনের বাড়াবাড়ির তীব্র সমালোচনা করে বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়েছিলেন আসমা জাহাঙ্গীর৷

এমনও দেখা গিয়েছে, মানবাধিকার রক্ষা আন্দোলনের মঞ্চ থেকে প্রকাশ্যে আসমা জাহাঙ্গীরকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চলেছে পুলিশ ও সেনা৷ পরে ফিরে এসে আবার স্বমহিমায় আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন৷

আসমা ৯৭৮ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি পান। এছাড়াও, সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গালেন বিশ্ববিদ্যালয় সাম্মানিক ডিগ্রি লাভ করেন৷ এরপর তিনি মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে দেশের সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের বিরুদ্ধেই জনমত তৈরি করতে থাকেন৷ একইসঙ্গে গোঁড়া ইসলামি আইনের বিরুদ্ধেও পথে নেমে শুরু করেন আন্দোলন৷

২৭ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন৷ পরিস্থিতি এমন হয় যে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে আসমার আন্দোলনকে মান্যতা দিতে বাধ্য হয়েছিল পাক সরকার৷ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অসমারিক পুরষ্কার হিলাল-ই-ইমতিয়াজ, সিতারা-ই-ইমতিয়াজ প্রদান করা হয় আসমা জাহাঙ্গীরকে৷ ২০১০ সালে পেয়েছিলেন রামন ম্যাগসেসে পুরস্কার৷

Advertisement ---
---
-----