স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কয়েকদিন আগেই সংসদীয় কমিটির দু’দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ খোয়াতে হয়েছিল তাঁকে৷ এবার মুকুল রায়ের ঝুলিতে থাকা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদটিরই অবলুপ্ত ঘটালেন তৃণমূল নেত্রী! রাজনৈতিক মহলের মতে, মুকুল রায়কে দল থেকে তাড়ানোর পথ প্রশস্ত করতেই সহ-সভাপতির পদটি তুলে দেওয়া হল৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, শুক্রবারই দলের নতুন কমিটি গড়েছেন দলনেত্রী৷ তাতে বিশেষ কোনও হেরফের না হলেও মুকুল রায়ের পদটিই তুলে দেওয়া হয়েছে!

এই সংক্রান্ত আরও খবর: পুজোর পরেই নারদের ‘কাঁটা’য় বিদ্ধ মুকুল রায়ের নেতৃত্বে পৃথক দলের ঘোষণা

Advertisement

এবিষয়ে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘‘নতুন কমিটি থেকে দলের সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতির পদটিই তুলে দিয়েছেন দলনেত্রী৷’’ মুকুল রায়কে তাড়াতেই কি পদের অবলুপ্তি ঘটাতে হল? প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব৷ যদিও দলনেত্রীর এই সিদ্ধান্তর পর মুকুল রায়ের দলত্যাগ সংক্রান্ত জল্পনার পারদ আরও চড়েছে তৃণমূলের অন্দরে৷

এই সংক্রান্ত আরও খবর: মুকুল রায়কে দলে নিতে আপত্তি নেই অধীরের

সেপ্টেম্বরের গোড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত সংসদীয় উপদেষ্টা কমিটি থেকে মুকুল রায়কে বাদ দেয় তৃণমূল৷ সেই পদে আনা হয় বাম আমলের প্রাক্তন আমলা তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মণীশ গুপ্তকে৷ দলের তরফে রীতিমতো চিঠি দিয়ে এই রদবদলের কথা জানানো হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে৷ এর আগে পরিবহণ, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকেও মুকুল রায়কে সরিয়ে ছিল দল। তাঁর জায়গায় আনা হয় দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। পর পর সংসদীয় কমিটির দু’দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ খোয়ানোর পর এবার সহ-সভাপতির পদটিও অবলুপ্ত হওয়ায় তৃণমূলে মুকুল জমানার অবসান ঘটল বলেই মনে করা হচ্ছে৷

এই সংক্রান্ত আরও খবর: নারদ ফুটেজে একমাত্র আমাকেই টাকা নিতে দেখা যায়নি: মুকুল

মুকুল ঘনিষ্ট একটি সূত্রের খবর, পুজোর মাঝেই দলবদল ঘটাতে পারেন মুকুল রায়৷ তবে তিনি বিজেপি-তে যাবেন নাকি নিজেই পৃথক কোনও দল গড়বেন তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ তৃণমূল থেকে মুকুল রায় বেরিয়ে গেলে তৃণমূলে ভাঙন ধরে কি না, তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে৷ কারন, একটা সময় পর্যন্ত দলনেত্রীর পর তৃণমূলের অন্দরে শেষ কথা বলতে সকলেই বুঝতেন একটাই নাম- মুকুল রায়৷ কোন জেলায় কে জেলা সভাপতি হবেন কিংবা কোন আসনে কার ভাগ্যে প্রার্থীপদ জুটবে, সবই ঠিক করতেন তিনি৷ তিনি ছাড়া দিদিমণি যেন এক পা-ও চলতে পারতেন না৷

এই সংক্রান্ত আরও খবর: তৃণমূলে উপেক্ষিত মুকুল-মদনকে দল ছাড়ার ‘নির্দেশ’ মমতার

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজনীতিতে সবই সম্ভব৷ ২০১৫সালে সারদা মামলায় মুকুল রায়ের নাম জড়াতেই ধীরে ধীরে দল থেকে ডানা ছাঁটার প্রক্রিয়া শুরু হয়৷ যদিও বাম থেকে বিজেপি সকলের মুখেই শোনা গিয়ছিল- দূরত্ব নয়, আসলে সবটাই মমতা-মুকুলের ‘গেম প্ল্যান’৷ কিন্তু সারদার পর নারদ কাণ্ডেও তৃণমূলের এই ‘হেভিওয়েট’ নেতার নাম জড়ায়৷ সূত্রের খবর, সারদা-নারদ জোড়া ফলার সামনে পড়ে এরপরই বিজেপি সংস্রব বাড়াতে শুরু করেন মুকুল রায়৷ এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এমনও শোনা গিয়েছিল, যে পাল্টা দল গড়ছেন মুকুল রায়৷ যার নাম- ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’৷ সূত্রের খবর, জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসে যারা রয়েছেন তারা সকলেই মুকুল ঘনিষ্ট হিসেবেই পরিচিত৷ ফলে জল্পনা বেড়েছে বই কমেনি৷

এই সংক্রান্ত আরও খবর: ডানা ছাঁটল দল, মুকুলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

তৃণমূল সূত্রের খবর, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত হন যে মামলা থেকে বাঁচতে বিজেপির প্রতি সংস্রব বাড়াচ্ছেন মুকুল৷ এরপরই দফায় দফায় তৃণমূলে মুকুল রায়ের ডানা ছাঁটার প্রক্রিয়া শুরু হয়৷ সহ-সভাপতির পদটির অবলুপ্তি ঘটিয়ে এবার মুকুল জমানার অবসান সুনিশ্চিত করা হল বলেই মনে করা হচ্ছে৷ দলের একাংশের মতে, ‘‘দাদা বিজেপি-তে গেলে বাংলায় তৃণমূলে ভাঙন নিশ্চিত৷’’ অন্য অংশ বলছেন, ‘‘যেভাবে একের পর এক পদ কেড়ে নেওয়া হল, তাতে দাদার পক্ষে আর তৃণমূলে থাকা সম্ভব নয়৷ উনি যাতে দল থেকে চলে যান, তাই সহ-সভাপতির পদটির অবলুপ্তি ঘটানো হল৷’’

যাকে নিয়ে এত জল্পনা তিনি অবশ্য ‘স্পিকটি নট’ হয়ে রয়েছেন৷ সহ-সভাপতির পদটির অবলুপ্তির পরও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের বিশ্বস্ত সহকর্মী মুকুল রায়৷

এই সংক্রান্ত আরও খবর: বিজেপিতে কি যাচ্ছেন মুকুল? বিস্ফোরক উত্তর দিলেন দিলীপ ঘোষ

----
--