সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধনের আগেই বাড়ছে আইনি জটিলতা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : বাড়ছে আইনী জটিলতা৷ জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধনের আগে থেকেই একের পর এক জটিলতা সামনে আসছে৷ আগামী ১৭ই আগস্ট জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷

তার আগেই একাধিক আইনী জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে এই সার্কিট বেঞ্চ৷ বৃহস্পতিবারও জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চ নিয়ে চলা দুটি পৃথক মামলার শুনানিতে ভবিষ্যত অধরা রইল৷ এদিনের শুনানি মুলতুবির পর ৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট৷

বৃহস্পতিবার মামলা চলাকালীন মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ২০০৬ সালে হাইকোর্টের ফুল কোর্ট বা সমস্ত বিচারপতি একত্রিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে লোকসভায় আইন প্রণয়নের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সহ সার্কিট বেঞ্চ স্থাপিত করা হোক।

তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালে রাজ্যের এই সার্কিট বেঞ্চ প্রসঙ্গে তৎকালীন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সলমান খুরশিদ লোকসভা চলাকালীন এক প্রশ্ন উত্তর পর্বে বলেছিলেন , জলপাইগুড়ির যে জায়গায় সার্কিট বেঞ্চের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেখানকার পরিকাঠামো যথেষ্ট নয়।

বিকাশবাবু আবেদনে জানান, আপাতত সার্কিট বেঞ্চের এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হোক। কারণ হিসেবে তাঁর ব্যাখ্যা, অস্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ হয় না। তখন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, এরাজ্যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্যপালের অনুমোদন নিয়ে সার্কিট বেঞ্চ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এরপর হাইকোর্ট প্রশাসনের পক্ষের আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, জলপাইগুড়িতে অস্থায়ীভাবে সার্কিট বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে । বিচারপতিদের একটি দল একসপ্তাহের মধ্যে জলপাইগুড়ির ডাকবাংলোয় জেলাপরিষদ ভবনে প্রস্তাবিত সার্কিট বেঞ্চের পরিকাঠামো পরিদর্শন করবেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল কৌশিক চন্দ্র বলেন, রাষ্ট্রপতি ও কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রককে এই সার্কিট বেঞ্চ তৈরির পরিকল্পনার বিষয় জানানো হয়নি। যদি হাইকোর্টে ও রাজ্য সরকার আবেদন জানায় তাহলে বিবেচনা করে দেখবে কেন্দ্র। সবপক্ষের বক্তব্য শুনে সার্কিট বেঞ্চের পরিকাঠামো পরিদর্শন না হওয়া পর্যন্ত মামলা মুলতুবি করে দেয় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চ।

----
-----