অভিমানী চিতাবাঘের খাদ্য কেবল দেশি মুরগি

স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: তোলা খাবারে কোনও রুচি নেই উত্তরকন্যার। শিলিগুড়ির ভেগা মল চত্বরে ত্রাস ছড়িয়ে ধরা পড়া চিতাবাঘিনী। গত ১০ মে কুকুরের টোপে খাঁচা বন্দী হতে হয়েছিল ওই বুনোকে। তারপর থেকে ওই চিতাবাঘের ঠাঁই হয়েছে দক্ষিণ খয়েরবাড়ির চিতাবাঘ পুনর্বাসন কেন্দ্রে। কিন্তু শুরুতেই বিপদের শেষ নেই তাকে নিয়ে। পুনর্বাসন কেন্দ্রের মেনু না পসন্দ তার।

ছাল ছাড়ানো মুরগির মাংস কিংবা গরুর মাংস কিছুতেই খেতে চাইছে না সে। টানা সাতদিন না খেয়ে ক্রমশই দুর্বল হতে শুরু করেছিল ওই চিতাবাঘ। শুধু মাত্র সামান্য জল ছাড়া আর কুটোটিও নেড়ে দেখেনি ওই নয়া আবাসিক। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগের পারদ চড়তে শুরু করেছিল বনকর্তাদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত জলদাপাড়া বন বিভাগের ডিএফও কুমার বিমল উত্তরকন্যার খাঁচায় জ্যান্ত মুরগী ছেড়ে দেওয়ার নিদান দেন।

- Advertisement -

প্রথম দিন দেওয়া হয় আস্ত একটি পোল্ট্রির মুরগি। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভেজেনি। ওই মুরগির দিকে ফিরেও তাকায়নি সদ্যবন্দী চিতাবাঘ। অগত্যা শেষ চেষ্টা হিসেবে নিয়ে আসা হয় জ্যান্ত দেশি মুরগি। তাতেই শেষ পর্যন্ত জল গলে। খাঁচায় বন্দী তাজা দেশি মুরগিকে ছটফট করতে দেখেই ওই চিতাবাঘের শিকারের প্রাকৃতিক প্রবনতা জেগে ওঠে। উড়ন্ত মুরগিকে এক ঝাপটায় থাবাবন্দী করে ফেলে উত্তরকন্যা।

অবশেষে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে বনকর্তাদের। তারপর থেকে দৈনিক দুই বেলা পালা করে দুটি থেকে তিনটি দেশি মুরগি বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু বিপদ হল কেউ সামনে থাকলে কিছুতেই শিকার করতে চায় না সে। মুরগিসহ খাঁচায় নিরিবিলি ছেড়ে দিতে হয় তাকে।

সেই চিতা

চিতাবাঘটির কেন ওই প্রবণতা? এই প্রশ্নের উত্তরে জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, ‘‘যে কোনও মাংসাশী বন্য প্রাণীদের শিকারের স্বাভাবিক অভ্যেস ভুলতে অনেকটা সময় লেগে যায়। কিন্তু সেই জায়গা থেকে উত্তরকন্যার আচরণ অনেকটাই ব্যাতিক্রমী। তোলা খাবারের প্রতি কোনও ভাবে ওর মনের মধ্যে কোনও সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। আর তা হয়ে থাকতে পারে খাঁচাবন্দী হওয়ার দরুন। ওর আচরণ ঠাহর করতে আমাদের প্রাথমিক অবস্থায় যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তবে ওই চিতাবাঘের কায়দা বুঝতে পারায় এখন আর কোন বিপদ নেই।’’

উত্তরকন্যার রুচির যোগান দিতে বেজায় মুশকিলে পড়েছেন দক্ষিণ খয়েরবাড়ি চিতাবাঘ পুনর্বাসন কেন্দ্রের কেয়ারটেকার পার্থসারথী সিনহা। তিনি বলেন, ‘‘দৈনিক তিনটে দেশি মুরগি যে ভাবেই হোক জোগাড় করতে হচ্ছে গ্রামগ্রামান্তর ঘুরে ঘুরে। একদিন বেচাল করার উপায় নেই। পোল্ট্রির মুরগি তো ঝিমিয়ে থাকে। তাই ও ফিরেও তাকায় না। দেশি মুরগির ছটফটানি দেখলেই ওর শিকারের বন্য খিদে জেগে ওঠে। তবে ইতিপূর্বে এখানে প্রচুর চিতাবাঘকে আনা হয়েছে। উত্তরকন্যার মত কাউকে নিয়ে এতটা বেগ পেতে হয়নি।’’

Advertisement ---
---
-----