‘বেটি বাঁচাও’-কে প্রশ্নে ফেলে মোদীকে চিঠি সোনাগাছির

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: স্যানিটারি ন্যাপকিনে জিএসটি হোক শূন্য শতাংশ৷ আর, তার জন্য, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-কে প্রশ্নের মুখে ফেলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই এ বার চিঠি লিখছেন যৌনকর্মীরা৷

তবে, নিজেদের জন্য নয়৷ দেশের প্রতিটি মহিলার স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই চিঠি লিখছেন তাঁরা৷ তেমনই, শুধুমাত্র আবার প্রধানমন্ত্রীকেও নয়৷ স্যানিটারি ন্যাপকিনে শূন্য শতাংশ জিএসটি রাখার জন্য রাজ্য সরকারের তরফেও যাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হয়, এমনই প্রত্যাশায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চিঠি পাঠাতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷

প্রায় এক বছর আগে জিএসটি চালু হয়েছে৷ যদিও, জিএসটি চালু হওয়ার আগে খোদ কেন্দ্রীয় নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মানেকা গান্ধী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির কাছে স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর জিএসটি চালু না করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন৷ কংগ্রেস সাংসদ সুমিতা দেব-ও অনলাইন পিটিশনের মাধ্যমে স্যানিটারি ন্যাপকিনকে জিএসটির আওতার বাইরে রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু, শেষ পর্যন্ত স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর ১২ শতাংশ জিএসটি বসানো হয়েছে৷

- Advertisement -

প্রতিবাদ অবশ্য থেমে থাকেনি৷ জিএসটি চালুর পর থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদও হয়ে চলেছে৷ একই সঙ্গে, বিভিন্ন মহল থেকে এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে, স্যানিটারি ন্যাপকিনে কেন শূন্য শতাংশ জিএসটি রাখা হবে না? কারণ, স্যানিটারি ন্যাপকিনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি জড়িত৷ তার উপর, এখনও দেশের প্রতিটি মহিলা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না৷ এর পিছনে যেমন অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে৷ তেমনই, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে৷

আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের এই সংগঠনের সচিব কাজল বোসের কথায়, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার স্বচ্ছ ভারতের কথা বলছে৷ বেটি বাঁচাও বেটি পড়াওয়ের কথা বলছে৷ রাজ্য সরকার কন্যাশ্রীর কথা বলেছে৷ অথচ, স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর ১২ শতাংশ জিএসটি চালু হয়েছে৷ স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর কেন শূন্য শতাংশ জিএসটি রাখা হবে না?’’

এমন প্রশ্ন অবশ্য কলকাতার সোনাগাছি, কালীঘাট সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির অধীনে থাকে যৌনপল্লিগুলির জন্য নয়৷ কাজল বোস বলেন, ‘‘সোশ্যাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কম দামে আমরা স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারছি৷ কিন্তু, এমনিতেই যেখানে এখনও দেশের সব মেয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না৷ তার উপর, অর্থনৈতিক কারণে এখনও যেখানে দেশের সব মেয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারেন না, সেখানে ১২ শতাংশ জিএসটি কীভাবে বসানো যেতে পারে?’’

শুধুমাত্র তাই নয়৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ দেশের প্রতিটি মেয়ে যাতে ব্যবহার করতে পারেন, তার জন্য এমনিতেই স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম খুব কম হওয়া জরুরি৷ অথচ, ১২ শতাংশ জিএসটির জন্য দাম বেড়ে গিয়েছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর যাতে শূন্য শতাংশ জিএসটি রাখা হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমরা চিঠি দেব৷’’

Advertisement ---
---
-----