টাকা নয়, মদ দিয়ে জরিমানা হয় এই গ্রামে

ধানবাদ: গত সপ্তাহে দালু বিরহোরের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর তুমুল ঝামেলা হয়৷ যা গড়ায় হাতাহাতিতে৷ গ্রাম প্রধান সেই ঘটনার পর দালুকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করেন৷ দালুকে তার জন্য দু’বোতল হারিয়া জরিমানা বাবদ দিতে হয়৷ এর এক মাস আগে ১৮ বছরের রেখা বিরহোরকে চুরির অপরাধে সাজা শোনান গ্রামের প্রধান৷ তাঁকেও তিন বোতল হারিয়া দিতে হয় জরিমানা হিসাবে৷

কী এই হারিয়া? হারিয়া ঝাড়খন্ডের এক ধরনের স্থানীয় মদ৷ চাল, জল ও কিছু জৈব পদার্থ দিয়ে হারিয়া তৈরি হয়৷ এই মদ যেমন পান করা হয় তেমন জরিমানার কাজেও ব্যবহার করা হয়৷ ঝাড়খন্ডের চলকারি গ্রামের বিরহোর উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই মদ জরিমানার কাজে ব্যবহার করার চল আছে৷ যখনই এই সম্প্রদায়ের কাউকে কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয় তখনই জরিমানা হিসাবে টাকার বদলে এই মদ দেওয়া হয়৷

স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার বিজয় কুমার জানিয়েছেন, এই উপজাতি সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ম কানুন মেনে চলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বিরহোর সম্প্রদায়ের মানুষ সাধারণত আইনি ঝামেলায় জড়াতে চান না৷ তাঁরা নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে নেয়৷ মজার বিষয় হয়, কেউ এর বিরোধীতা করে না৷’’

- Advertisement -

বিরহোর সম্প্রদায় তাদের এই ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব বোধ করে৷ একজন জানিয়েছেন, এই নিয়ম নীতি গোটা সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে চলেছে৷ অপরাধের ধরন অনুযায়ী হারিয়া ঠিক হয়৷ যেমন, মারামারির ঘটনায় কাউকে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে দু’বোতল হারিয়া দিতে হয়৷ চুরি বা তার চেয়ে বেশি গুরুতর অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে পাঁচ থেকে দশ বোতল হারিয়া দিতে হয়৷

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক এত হারিয়া দিয়ে পরে কী করা হয়? সম্প্রদায় প্রধান মাঝি হারাম জানিয়েছেন, এই হারিয়াগুলি উৎসবের সময় ব্যবহার করা হয়৷ তাদের গ্রামে বছরে তিনটি উৎসব হয়৷ সেই সময় হারিয়া খেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন সকলে৷

এই গ্রামটি টপচাচি পুলিশ থানার অধীনে পড়ে৷ কিন্তু গত ছ’দশকে গ্রামে পা রাখতে হয়নি পুলিশকে৷ গ্রামের এক বাসিন্দাই জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করে থাকেন৷ বিগত ৬৫ বছরে গ্রামে তাই একজন পুলিশ অফিসারকেও পা রাখতে হয়নি৷ আর গ্রামের মানুষও পুলিশের কাছে যায় না৷

Advertisement ---
---
-----